পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > বাংলাদেশ > অপরাধ > শীর্ষ মাদক কারবারিরা অধরা

শীর্ষ মাদক কারবারিরা অধরা

মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। অভিযানে খুচরা মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী গ্রেপ্তার হলেও শীর্ষ মাদক কারবারিরা অধরাই থেকে যাচ্ছেন। এ কারণে অভিযানের সফলতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

র‌্যাব, পুলিশের সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করছে। তালিকাও করেছে সরকারি এ সংস্থাটি। তাদের তালিকায় সন্দেহভাজন ৩৭ জন শীর্ষ মাদক কারবারি স্থান পেয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলেন রাজধানীর অভিজাত এলাকার মাদক কারবারি মো. হুমায়ুন কবির গাজী ওরফে কবির গাজী। তিনি ধানমন্ডি, বনানীসহ অভিজাত এলাকায় গাড়িতে করে বিদেশী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ-বিয়ার ও ইয়াবা বিক্রি করেন। এ ব্যবসাকে নিরাপদে করতে কবির গাজী এসব এলাকার বহুতল ভবনের গ্যারেজ ভাড়া করেছেন। সেখানেই গাড়িগুলো রেখে মাদক পাচারের মাধ্যমে বছরের পর বছর এ ব্যবসা করে আসছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তাকে খুঁজে পাচ্ছে না।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১১ মার্চ বনানী থানার এসআই মো. আনিছুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলা নম্বর ১২। সেখানে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে কবির গাজীকে। এছাড়া বনানী থানায় করা একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কবির গাজী। এছাড়া তার বিরুদ্ধে রাজধানীর অন্য থানায় আরো বেশ কয়েকটি মামলা আছে। তবে এত মামলার আসামি এবং চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হলেও তাকে ধরা যায়নি। অভিযানের পরপরই তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরমান আলী জানিয়েছেন।

ফরমান আলী রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘তাকে ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে। কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া কমালপুর স্টেশন এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জমিলা আত্মগোপনে চলে গেছেন। তার বিরুদ্ধে মতিঝিল, শাহজাহানপুর, সবুজবাগ এবং মুগদা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। একই এলাকার অন্যতম মাদক ব্যবসায়ী সাজুও পালিয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধেও অগণিত মামলা রয়েছে। রাজধানীর বেশিরভাগ মাদক ব্যবসায়ী একইভাবে পালিয়ে গেছেন বলে গোয়েন্দা তথ্য আছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, দেশে খুচরা মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। তবে আইনের কারণে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। কেননা তারা কখনোই মাদক বিক্রির স্পটে থাকছেন না। তারা আত্মগোপনে নিরাপদ গন্তব্যে থেকে যাচ্ছেন। দেশের প্রায় ১ কোটি মানুষ এখন মাদকাসক্ত বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে। এসব মাদক কারবারিকে আইনের আওতায় আনতে হলে আইন সংশোধন করা দরকার বলে মনে করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জামান উদ্দিন আহমেদ।

জামান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আইনের যে দুর্বলতা রয়েছে তাতে কারো কাছে মাদক পাওয়া না গেলে তাকে মাদক আইনে গ্রেপ্তার করা যায় না। এ কারণে গডফাদার থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে মাদক বিতরণকারীকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। আইন সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

গোয়েন্দা তথ্য বলছে, পাশের দেশ মিয়ানমার থেকে আসা সহজে বহনযোগ্য ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে আনা হচ্ছে ইয়াবা। সীমান্তে নজরদারি বেড়ে যাওয়ায় সাতক্ষীরা দিয়ে শুরু হয়েছে ইয়াবা পাচার। প্রতিদিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। কিন্তু তা পাচার হয়ে আসা মাদকের মাত্র ১০-১৫ ভাগ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে শীর্ষ থেকে খুচরা মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার। তবে ধরা পড়ছে কেবল চুনোপুটিরা। মাদক নির্মূল এবং গডফাদারদের গ্রেপ্তার করতে হলে আইন সংশোধন করা দরকার বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

x

Check Also

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে গলা কেটে হত্যা

ফেনী সংবাদদাতা : ফেনীর দাগনভূইয়া উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত যুবকের নাম ফখরুল উদ্দিন চৌধুরী (৩০)। শনিবার সকালে উপজেলার মাতুভূইয়া বাজার সংলগ্ন মাঠ থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ...

যৌন হয়রানি ও পাচারের শঙ্কায় রোহিঙ্গা শিশুরা

ডিপথেরিয়ার মতো মহামারির সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি নতুন করে যৌন হয়রানি ও পাচারের শঙ্কা দেখা দিয়েছে রোহিঙ্গা শিশুদের মাঝে। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) প্রতিবেদন বলছে, কেবল রোহিঙ্গা শিশু নয়, আশ্রয়দাতা দেশের শিশু-কিশোরদেরও বড় অংশ যৌন হয়রানির ...

দুই সাংবাদিককে হত্যার হুমকি ডিআইজি মিজানের, ক্র্যাবের নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক : জোর করে এক নারীকে বিয়ে করাসহ বিভিন্ন অভিযোগের সংবাদ প্রকাশ করায় দুই সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দিয়েছেন প্রত্যাহার হওয়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান। পুলিশের উচ্চ পদে থাকা একজন কর্মকর্তা ...

শিরোনামঃ