পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > বাংলাদেশ > সরকার > যে কথা মনের কথা

যে কথা মনের কথা

গতকাল শুক্রবার রাইজিংবিডির স্পেশাল বক্সে বেরিয়েছিল প্রতিবেদনটি। শিরোনাম ছিল ‘বাংলা মায়ের কোল’।

সত্যিই, শিরোনামের সঙ্গে অদ্ভুত একটা মিল ছিল। বাংলা মায়ের কোল ঘেঁষে পদচারণা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। যা যান্ত্রিক শহুরে জীবনে একটুখানি স্বস্তি। নিজের পৈত্রিক বাড়িতে ফেরার আনন্দই ছিল অন্যরকম। নিজের ভাগ্নে, ভাগ্নে বউ আর নাতীদের নিয়ে রিকশাভ্যানে বাংলার মোঠোপথে ঘুরতে ঘুরতে প্রধানমন্ত্রী নিজের শৈশবে ফিরে যান।

আর ১৭ বছর বয়সের ইমাম শেখ ভ্যান চালাতে চালাতে স্বপ্নের ডানা মেলেছিল প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে। প্রধানমন্ত্রী কাছে একটা চাকরি চেয়ে যদি কিছু একটা পাওয়া যায়। কিন্তু বারবার বলতে গিয়েও বলা হয়নি। বুঁজে যায় কণ্ঠস্বর। দেশের সরকার প্রধান যে তারই প্রতিবেশি। শেষমেষ সব ভাবনা-চিন্তা দূরে ঠেলে মনোনিবেশ করেন রিকশা চালানোয়। তিনি ভাবতে থাকেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই রিকশার যাত্রীও সে। এটাই হোক তার সান্তনা, তার আনন্দ-ভ্রমণ। হতে পারে সে চালক, কিন্তু তাতে কি- প্রধানমন্ত্রী তো তার রিকশায়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পাটগাতী সরদার পাড়া। সেখানেই বসবাস করেন  ইমাম শেখ। সংসারে বাবা, মা, ভাই আর তিন বোন। বাবা আব্দুল লতিফ মানসিক রোগী, মা গৃহিণী। বড় দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট বোন পড়ালেখা করছে। আর এক ভাই ঢাকায় চাকরি করেন।

গত দেড় বছর ধরে টুঙ্গিপাড়ায় ভ্যান চালায় ইমাম। অর্থের অভাবে পঞ্চম শ্রেণিতেই লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর পড়ালেখায় মনোনিবেশ করতে পারেনি। নামতে হয় জীবনযুদ্ধে। সঙ্গী হয় রিকশাভ্যানের হ্যান্ডেল।

গতকাল শুক্রবার তখনও ঠিকমতো সকাল হয়নি। কুয়াশায় ঢাকা চারদিক। এমন সময় ভ্যানে চড়ার আবদার ধরেন প্রধানমন্ত্রী। আনা হয় ভ্যান। আর তাতেই ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে চেপে বসেন শেখ হাসিনা। আর ছোট নাতনিকে কোলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বসেন ভ্যানে। বঙ্গবন্ধুর সমাধি এলাকার এক নম্বর গেট থেকে শুরু হয় তাদের যাত্রা। প্রথমেই ভ্যান চালিয়ে ইমাম শেখ যান প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে।

ঘুরে বেড়ান জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন স্থান। জাগিয়ে তোলেন প্রধানমন্ত্রী তার ছেলেবেলার স্মৃতিকে। ছেলেবেলার টুকরো টুকরো কথা তাকে আনমনা করে তোলে। কিন্তু হাস্যোজ্জ্বল শেখ হাসিনাকে দেখে তা বোঝার উপায় ছিল না। ভ্যানের সামনের দিকে বসেন প্রধানমন্ত্রী, অন্যপাশে রাদওয়ান। পেছনের দিকে রাদওয়ানের আরেক মেয়ে ও স্ত্রী পেপি। প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা ঘুরে দেখেন শেখ হাসিনা। আর ভীষণ সাবধানতার সঙ্গে ভ্যান চালান ইমাম।

মোবাইল ফোনে ইমাম শেখ জানান, ভ্যান থেকে নেমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ৫০০ টাকা বের করে দেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভ্যানে চড়েছেন এতেই সে যারপর নাই খুশি।

শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভ্রমণের সময় আপনার কেমন লাগছিল- এই প্রশ্নের জবাবে ইমাম শেখ বলেন, ‘এক কথা ভোলার মতো নয়। অবশ্যই আমার জীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত। দেশের প্রধানমন্ত্রী আমার ভ্যানে চরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর সেই ভ্যানের চালক আমি। পাল্টা প্রশ্ন রাখেন ভোলার মতো কথা কি।’

টাকা নিতে চাননি কেনো- এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ার মেয়ে। আমাদের আপা। আমি কেন আপার কাছে থেকে টাকা নিব। কেউ কি কারো আপার কাছ থেকে টাকা নেয়। এ মুহূর্তটিকে অর্থ নিয়ে আমি অর্থবন্দি করতে চাইনি। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার পকেটে টাকা গুজে দেন।’

সুযোগ পেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কি কিছু বলতে চেয়েছিলেন- উত্তরে তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম একটা চাকরি চাবো। আসলেই খুব দরকার। কিন্তু বলিনি।’

এদিকে ফেসবুক পেজে ‘বাংলা মায়ের কোল’ প্রতিবেদনটি শেয়ার করা হলে নানা জনে নানা মন্তব্য করেন। শাহীন মিয়া লেখেন, একমাত্র আমার নেত্রীই পারেন দেশ, মাটি ও মানুষকে ভালবাসতে। কোটি সালাম আপনাকে।

সাজ্জাদুর রহমান লেখেন, ‘সালাম তোমায়, তুমি গোপালগঞ্জের সন্তান।’

x

Check Also

‘বাংলাদেশের উন্নয়ন কেউ থামাতে পারবে না’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছে এবং এই উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। বুধবার বিকেলে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব জায়গায় এবং নিজস্ব অর্থে নবনির্মিত চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে প্রদত্ত ...

‘পুনরায় নির্বাচিত হলে সব বিভাগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় নির্বাচিত হলে প্রত্যেক বিভাগে একটি করে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলবে। রোববার প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসেসিয়েশন (বিএমএ) আয়োজিত চিকিৎসক সম্মেলনে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ...

‘নির্বাচন ঠেকানোর শক্তি কারো নেই’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন হবেই। নির্বাচন ঠেকানোর মতো শক্তি কারো নেই। তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র আছে, ষড়যন্ত্র থাকবে, জনগণ সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে। কারো হুমকিতে ঘরে বসে থাকলে চলবে না, কাজ করতে হবে। যতক্ষণ শ্বাস ...

শিরোনামঃ