পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > বাংলাদেশ > রাজনীতি > আ.লীগ দুই লাখ হাজার কোটি টাকা লুট করেছে : বিএনপি

আ.লীগ দুই লাখ হাজার কোটি টাকা লুট করেছে : বিএনপি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রায় এক দশকের শাসনামলে দলটির নেতারা ‘ঋণের নামে ও কারসাজি করে’ ২ লাখ হাজার কোটি টাকা লুট করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

দলটি বলছে, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ৯ বছরে দেশের অধিকাংশ সরকারি বেসরকারি ব্যাংক, নন-ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিদারুণ ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে। সুশাসন ও জবাবদিহিতার অভাব, দুর্নীতি, লুটপাট, নীতিহীনতা আর বিশৃঙ্খলা সব মিলিয়ে এক অস্থিতিশীল ও নৈরাজ্যকর অবস্থায় রয়েছে বর্তমান ব্যাংকিং খাত।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকিং খাত নিয়ে কথা বলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকগুলো তীব্র তারল্য সংকটে জর্জরিত। ধার-দেনা করে চলছে দেশের বেশিরভাগ ব্যাংক। আমানতকারীরা লাইন ধরে আমানতের টাকা ফেরত নিতে চাচ্ছে। তারা চেক দিয়েও সময়মতো টাকা পাচ্ছে না। তহবিলের অভাবে চেক বাউন্স হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদনপ্রাপ্ত ঋণও ফেরত নেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ব্যাংকাররা।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর স্বয়ং উদ্বিগ্ন হয়ে মন্তব্য করেছেন যে, একটি বেসরকারি ব্যাংক খারাপ অবস্থায় পড়ে গেছে। এখন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি ব্যাংক থেকে আমানত সরিয়ে নিতে চাইছে। একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই আতঙ্ক আগে শেয়ারবাজারে ছিল, এখন ব্যাংকে চলে আসছে। অথচ অর্থমন্ত্রী পরিস্থিতি গুরুতর নয় বলে দাবি করছেন। অর্থনীতির অবস্থা আর কত তলানিতে নামলে সরকারের নিকট গুরুতর বিবেচিত হবে তা আমাদের বোধগম্য নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ২০১৭ সালের জুন মাসের শেষে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে মন্দ-ঋণ বেড়ে হয়েছে ৬১ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। এর সাথে অবলোপিত ৪৫ হাজার কোটি টাকা, বিভিন্ন অপকৌশলে (ভুয়া দলিল, ভুয়া কোম্পানি, ভুয়া এলসি ইত্যাদি) ৬৫ হাজার কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কোষাগার থেকে ৮০০ কোটি টাকা অর্থাৎ লুটতরাজ আর অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুট হয়ে গেছে। অনেকের মতে, ৪৫ হাজার কোটি টাকা অবলোপন করা হয়েছে বলে যে তথ্য প্রকাশ হয়েছে তা সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে এই অর্থের পরিমাণ দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকার কম নয়।

খেলাপি ঋণই বাংলাদেশের ব্যাংক সংকটের মূল কারণ, দাবি করে তিনি বলেন, ঋণের নামে গ্রাহকদের হাজার হাজার কোটি টাকার আমানত লুটে নিচ্ছে খেলাপিরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সাবেক ডেপুটি গভর্নরের মতে, খেলাপির সাগরে ভাসছে ব্যাংকিং খাত। অবলোপনের দোহাই দিয়ে ঋণের তালিকা থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে খেলাপিদের নাম।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর ঋণ আমানত অনুপাত থাকার কথা ৮৫%। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে বেপরোয়া ব্যাংকিংয়ের ফলে ১০ ব্যাংকের আমানত অনুপাতের সীমা ৮৫ ভাগেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। এতে গোটা ব্যাংক খাতে হঠাৎ করেই বেড়েছে তারল্য চাহিদা। বাড়তে শুরু করেছে ঋণের সুদের হার। আমানতের সুদের হার কমে যাওয়ায় অনেকটা ব্যাংকবিমুখ হয়ে পড়ছেন গ্রাহকরা। কিছু ব্যাংকের বেপরোয়া ঋণদানের কারণে কলমানিতের সুদের হারও বেড়ে গেছে। সুদ হার কমায় দুই বছর ধরেই আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। এ সত্ত্বেও কয়েকটি ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে আগ্রাসী হয়ে উঠেছে।

নতুন ব্যাংকের অনুমোদনের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, যখন দেশের ব্যাংকিং ক্ষেত্রে এমন চরম অরাজকতা বিরাজ করছে এবং দেশে যখন নতুন ব্যাংক স্থাপনের আর কোনো সুযোগ নেই বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, তখন সরকার এ বছর আরো তিনটি নতুন ব্যাংক স্থাপনের পাঁয়তারা করছে। বর্তমানে সদ্য নতুন ব্যাংকগুলোর নাজুক অবস্থা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট মহলের তীব্র বিরোধিতা সত্বেও সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সরকারদলীয় লোকদের অনুকূলে নতুন ব্যাংক স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।

তিনি বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দলীয় ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের মালিকানা সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিশেষ গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যা ব্যাংকিং জগতে চিরস্থায়ী অশুভ প্রভাব ফেলবে এবং অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য। বর্তমানে অবশিষ্ট বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যেও বেদখল হয়ে যাওয়ার মারাত্মক আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানা যায়।

ব্যাংকের পরিচালক থাকার নিয়ম পরিবর্তনের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগে যেখানে একটি ব্যাংকে একই সময়ে একটি পরিবারের ২ জন পরিচালক ২ মেয়াদে ৬ বছর পর্যন্ত থাকার নিয়ম ছিল, বর্তমান সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা বাড়িয়ে একই পরিবারের ৪ জনকে পরিচালক পদে টানা ৩ মেয়াদে ৯ বছর থাকার সুযোগ করে দিয়েছে। আর সঙ্গে যোগ হয়েছে একই পরিবারের বহু ব্যাংকের মালিকানার সুযোগ। ওই পরিবারগুলো আবার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণের ঋণগ্রহিতা। ঝুঁকির এ ধরনের বড় নজির পৃথিবীতে নেই। সংশোধিত আইন কার্যকর করা হলে পরিবারতন্ত্র কায়েমের মাধ্যমে পরিচালকদের লুটপাটের পরিমাণ নিঃসন্দেহে আরো বেড়ে যাবে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত যখন খেলাপি ঋণের ভারে নুয়ে পড়েছে এবং অনিয়ম ও বিচারহীনতায় নিমজ্জিত, তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ছিল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কঠোরভাবে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক যথাযথ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তার উপর অতি সম্প্রতি ব্যাংক মালিকদের চাপের মুখে আরো ছাড় দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, অর্থমন্ত্রী ব্যাংকগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নগদ জমার হার এক শতাংশ (১%) কমিয়ে দিয়েছে। এতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর হাতে যাবে এখন প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। মুদ্রানীতির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে সিআরআর। বিশ্বের সব কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাপক আলাপ-আলোচনা ও গভীর বিশ্লেণের পর এই হার নির্ধারণ করে থাকে। অথচ বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী এই কাজ করলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে হোটেলে ডেকে নিয়ে ব্যাংক মালিকদের সঙ্গে মুখোমুখি বসে। ব্যাংক মালিকদের চাপে ব্যাংক খাতের এহেন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা খর্ব করা হলো।

ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও বিপর্যয়ের জন্য সরকারকে দায়ী করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আর্থিক খাতে সুশাসন না থাকার ফলে ব্যাংক লুটেরারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় আওয়ামী আশির্বাদপুষ্ট মহল আরো উৎসাহিত হয়ে নানা কৌশলে ব্যাংকের অর্থ লুণ্ঠন করেই যাচ্ছে। বর্তমানে সব ব্যাংকিং খাতে যে রক্তক্ষরণ হচ্ছে তা অচিরেই অর্থনীতিকে রক্তশূন্য করে ফেলবে। রাষ্ট্র ও সমাজ মুখোমুখি হবে গভীর সংকটের। বর্তমান অবৈধ সরকারকে অবশ্যই এর দায়ভার নিতে হবে।

বাংলাদেশে লাখ লাখ কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে, দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমানে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যেভাবে সন্ত্রাস হচ্ছে, বাংলাদেশে আর্থিক খাতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সেভাবে হচ্ছে দুর্নীতি। তারা (আওয়ামী লীগ) মনে করে, পুনরায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে তাদের জনগণের ভোটের দরকার নেই। তাই দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি ব্যাংকিং সেক্টরকে লোপাট করে আরো টাকার পাহাড় গড়তে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

x

Check Also

যুব মহিলা লীগ থেকে পাপিয়া আজীবন বহিস্কার

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে যুব মহিলা লীগের নরসিংদী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শামিমা নূর পাপিয়াকে আজীবনের জন্য সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। রোববার সংগঠনের সভাপতি নাজমা আক্তার এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অপু উকিল স্বাক্ষরিত এক ...

মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তনের আভাস কাদেরের

শিগগিরই আর পরিবর্তন না হলেও, আগামীতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় নতুন করে মেজর কোনো পরিবর্তন বা সম্প্রসারণ এই মুহূর্তে হবে না, পরে ...

কামালকে ‘ঐক্যরক্ষা’য় মনোযোগী হতে তথ্যমন্ত্রীর পরামর্শ

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের সরকারকে হটাতে যে বক্তব্য রেখেছেন, সেটি তার ব্যক্তিত্বের সাথে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। রোববার কাকরাইলে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) সেমিনার হলে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ...

শিরোনামঃ