পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > বাংলাদেশ > রাজনীতি > রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা

রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা

আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ এলাকাবাসীর সাথে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাশাপাশি তারা দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের কাছে লবিং ও তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

দলীয় সূত্র মতে, বাঘা-চারঘাট আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় বেশ কিছু নেতা রয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন নেতা বর্তমানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় থাকা নেতারা হলেন চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদ, জেলা বিএনপির সহসভাপতি শিল্পপতি বজলুর রহমান, বাঘা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শিল্পপতি নূরুজ্জামান খান মানিক এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের বিষয়টি জানান দিতে দলীয় নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর সাথে কমবেশি যোগাযোগ শুরু করেছেন। তারা এলাকাবাসীর সাথে কুশলবিনিময় এবং খোঁজখবর রাখছেন। বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যাচ্ছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রার্থী মনোনয়নে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামত বিবেচনায় নিতে হবে। বিগত সময়ে দলের দুঃসময়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, বিগত আন্দোলন কর্মসূচিতে মাঠে ছিলেন, পাতানো রাজনীতি করেন না, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেন এমন যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। তবেই বিজয় সুনিশ্চিত হবে বলে মনে করেন তারা।

তারা আরো বলেন, দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ এলাকাবাসীর সাথে যোগাযোগ রাখেন, তাদের সুখ-দুখে পাশে দাঁড়ান, সুনাম রয়েছে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত নন এবং জনপ্রিয়তা রয়েছে এমন নেতাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিতে হবে। তবেই এই আসনটিতে জয় পাওয়া সম্ভব হবে। তারা বলেন, ইতঃপূর্বে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বারবার এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই প্রার্থী মনোনয়নে তৃণমূলের মতামত প্রাধান্য দেয়া হলে এ আসনটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব বলে তারা মনে করছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাঘা উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব ও বাঘা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: সুরুজ্জামান সুরুজ নয়া দিগন্তকে বলেন, বাঘা-চারঘাট আসনে প্রার্থী হতে চান চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদ। তিনি পরপর পাঁচবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদে পরপর তিনবার এবং উপজেলা পরিষদে দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তা ছাড়া বিগত আন্দোলন কর্মসূচিতে বিএনপি নেতা চাঁদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সব বিবেচনায় তিনি এ আসন থেকে এবার দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে নেতাকর্মীরা আশা করছেন।

বিএনপি নেতা সুরুজ বলেন, এ আসনে চাঁদকে প্রার্থী করা হলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে তারা আশা করছেন। কারণ বারবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া তার জনপ্রিয়তারই প্রমাণ। তিনি চারঘাটের চেয়ারম্যান হলেও বাঘা উপজেলাতেও তার জনপ্রিয়তা যথেষ্ট।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে বিএনপিতে কোন্দল রয়েছে এ কথা সঠিক। তবে চাঁদকে মনোনয়ন দেয়া হলে কোন্দল ভুলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে কাজ করবেন। এ ছাড়া তাকে বিজয়ী করাও সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

এ দিকে আবু সাঈদ চাঁদ নয়া দিগন্তকে বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে আমি আশা করি। তিনি বলেন, বিগত সময়ে দলের দুঃসময়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এবং বিগত আন্দোলন কর্মসূচিতে মাঠে ছিলেন এমন নেতাকে প্রার্থী করার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি। এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী বিশিষ্ট শিল্পপতি বজলুর রহমান। তার বাড়ি বাঘা উপজেলার আড়ানীতে। বজলুর রহমান আশা প্রকাশ করে বলেন, আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করবে। এ জন্য আমি দলীয় নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছি। আমি সব সময় তাদের পাশে আছি।

নূরুজ্জামান খান মানিক নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। দল আমাকে মূল্যায়ন করবে বলে আমি আশাবাদী।

আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। দল বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে বলে আমি আশা করি। তিনি বলেন, বিগত সময়ে আমি দলের সব কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি এবং বর্তমানে সক্রিয় রয়েছি। তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বলেও জানান।

এ দিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা নয়া দিগন্তকে বলেন, এর বাইরে আরো ক’জন নেতা আছেন যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী। কিন্তু তারা মাঠে সক্রিয় নন। বিগত আন্দোলন কর্মসূচিতেও তারা মাঠে ছিলেন না। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে তেমন যোগাযোগও তাদের নেই। দলীয় পদ-পদবি ঠিক রাখতেই তারা বেশি তৎপর।

x

Check Also

ধর্ষণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অবস্থান চান রওশন

ধর্ষণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অবস্থান দরকার বলে মনে করেন বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। বুধবার (০৭ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশজুড়ে একের পর এক ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। সেই সঙ্গে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক ...

যুবলীগকে মাঠে থাকার নির্দেশ

ঢাকা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে যুবলীগকে মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর নুর কমিউনিটি সেন্টারে যুবলীগ আয়োজিত জরুরি নির্বাচনী সভায় ...

‘আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না’

আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের সন্ত্রাস সৃষ্টি, জণভোগান্তি এবং জণমালের ক্ষতি সরকার মেনে নেবে না বলে বিএন‌পিকে সতর্ক করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রোববার (০৪ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ত্রাণ ...

শিরোনামঃ