পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > বাংলাদেশ > রাজনীতি > নির্বাচনী বছরে ছাত্রলীগকে সতর্ক থাকার পরামর্শ আ.লীগের

নির্বাচনী বছরে ছাত্রলীগকে সতর্ক থাকার পরামর্শ আ.লীগের

নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা মেয়াদে ক্ষমতাসীন সরকার দ্বিতীয় টার্মের শেষ বছরে পদার্পণ করেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত না হলেও চলতি বছরে ডিসেম্বরে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

তাই মেয়াদের শেষ বছরে শিক্ষাঙ্গণে সরকারবিরোধী চক্রান্ত মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়ে ছাত্রলীগকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনগুলোতে কারো উস্কানির ফাঁদে পা না দেয় সে বিষয়েও সতর্ক থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার কথা বলেছেন নেতারা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হাইকমান্ডের নির্দেশে ছাত্রলীগকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতা এমন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে। গতকাল সন্ধ্যা থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকার বিভিন্ন শাখা নেতারা যোগ দেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে দলীয় সূত্র জানায়।

ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘নেতারা আমাদেরকে ক্যাম্পাসের পরিবেশ পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সাথে আমাদের যেকোনো পরিস্থিত মোকাবিলা করার মানসিক প্রস্তুতি রেখে সজাগ থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।’

বৈঠকে সাতটি বেসরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি এবং এর ফলে পক্ষ-বিপক্ষের আন্দোলন, ঢাবি উপাচার্যের কার্যালয় ভাঙচুর ও তাকে লাঞ্ছিত করা এবং উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গিয়ে ছাত্রলীগের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে নিজ দলীয় ছাত্রনেতাদের বক্তব্য শোনেন কেন্দ্রীয় নেতারা। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও ও ঢাবি ও মহানগর শাখাসহ বিভিন্ন শাখার নেতারা কথা বলেন। বৈঠকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারা অভিযোগ করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ঢাবি ক্যাম্পাসে আন্দোলন করছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো। এরা জাতীয় নির্বাচনী বছরে কোনো গোষ্ঠীর ইন্ধনে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ ঘোলা করছে কী না এ বিষয়ে সরকারকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। এছাড়া গণমাধ্যম ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক তরফাভাবে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ছাত্রনেতারা। তারা অভিযোগ করে বলেন, গণমাধ্যমগুলো একতরফাভাবে ছাত্রলীগের হামলার বিষয়টি ফলাও করছে। কিন্তু তার আগে ফটক ভাঙচুরসহ অন্যান্য বিষয়গুলোকে এড়িয়ে যাচ্ছে। ছাত্রলীগ কোনো হামলার সঙ্গে জড়িত হয়নি। আমরা ঢাবি উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গিয়ে তাদের আক্রমণের শিকার হয়েছি। আমাদের অনেক কর্মী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অথচ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো অন্য কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার নীল নকশায় লিপ্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন ছাত্রনেতারা।

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ছাত্রলীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একটি মহল বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ২৩ জানুয়ারি ঢাবি ক্যাম্পাসের ঘটনাটি পরিকল্পিত। বিভিন্ন বাম ছাত্রসংগঠনের ব্যানারে বহিরাগতরা সেখানে গিয়েছিল। তারা ভাঙচুর ও ভিসিকে অবরুদ্ধ রেখেছিল। তারা পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যে যেকোনো অঘটন সেদিন তারা ঘটাতো। এ অবস্থায় ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে ভিসিকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে। এছাড়া যেকোনো পরিস্থিতিতে ঢাবিসহ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেকোনো মূল্যে শান্তি বজায় রাখতে হবে। এজন্য ছাত্রলীগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে বসা হয়েছিল। তাদের বক্তব্য শুনে বলা হয়েছে কারো উস্কানিতে কান না দিতে। কারণ আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানামুখী ষড়যন্ত্র হতে পারে। তাই ক্যাম্পাসে অরাজক পরিস্থিতির পাঁয়তারা হতে পারে। যে ঘটনা ঘটেছে তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে যদি ছাত্রলীগও জড়িত থাকে তাহলে তাদেরও শাস্তি পেতে হবে।

বৈঠকে ঢাবির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ছাড়াও ছাত্রলীগের আসন্ন সম্মেলন নিয়ে কথা বলেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা। আওয়ামী লীগ নেতারা ছাত্রলীগকে আগামী সম্মেলনের জন্য সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন বলে বৈঠক সূত্র জানায়। আবার কেউ কেউ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এই মুহূর্তে ছাত্রলীগের সম্মেলন করাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত হবে? এই বিষয়টিও আওয়ামী লীগের থিঙ্কট্যাংককে ভাববার ব্যাপারে আহ্বান করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এছাড়া নেত্রী চাইলে সম্মেলনের সব সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন তারা এমন অঙ্গীকারও করেন নেতারা।

তথ্য সূত্র: রাইজিংবিডি

x

Check Also

ধর্ষণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অবস্থান চান রওশন

ধর্ষণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অবস্থান দরকার বলে মনে করেন বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। বুধবার (০৭ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশজুড়ে একের পর এক ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। সেই সঙ্গে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক ...

যুবলীগকে মাঠে থাকার নির্দেশ

ঢাকা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে যুবলীগকে মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর নুর কমিউনিটি সেন্টারে যুবলীগ আয়োজিত জরুরি নির্বাচনী সভায় ...

‘আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না’

আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের সন্ত্রাস সৃষ্টি, জণভোগান্তি এবং জণমালের ক্ষতি সরকার মেনে নেবে না বলে বিএন‌পিকে সতর্ক করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রোববার (০৪ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ত্রাণ ...

শিরোনামঃ