পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > বিনোদন > ‘ওই ঈদে আমরা আর মাংস খেতে পারিনি’

‘ওই ঈদে আমরা আর মাংস খেতে পারিনি’

আমি ফরিদপুর শহরে বড় হয়েছি। ঈদুল আজহায় ওখানে বেশির ভাগ বাড়িতে ছাগল কোরবানি করত। গরু কোরবানি কম হতো। আমরা তিন ভাই ছিলাম, তবে আব্বা আমাকে নিয়েই ছাগল কিনতে হাটে যেতেন। এক ঈদে আমাকে নিয়ে হাটে গেলেন। সেবার বেশ বড়সড় কালো রঙের একটি ছাগল কিনেছিলাম। ঈদের বেশ কয়েকদিন আগেই কেনা হয়েছিল। এরপর যা হয়, বাড়ির ছোট ছোট ছেলেমেয়ে অর্থাৎ আমরা ছাগলটির যত্ন নিতে লাগলাম। পালা করে কাঁঠালপাতা খাওয়াতাম। ঘাস খাওয়ানোর জন্য মাঠে নিয়ে যেতাম। খুব আনন্দের সঙ্গে সপ্তাহখানেক, কখনো আরো বেশি সময় আমরা কোরবানির ছাগল লালন-পালন করতাম।

এখনো একটি স্মৃতি আমার মনে গেঁথে আছে। আমার আম্মার একটি ছাগল ছিল। ওই ছাগলের তিনটি বাচ্চা হয়েছিল। একটি খাসি অন্য দুটি বকরি। ওই খাসি আমরা দুই বছর লালন-পালন করি। খুব যত্ন নিয়ে এটা আমরা বড় করি। আদর-যত্নটা এমনভাবে করতাম যেন এটা কোনো গৃহপালিত পশু নয় বরং আমাদের পরিবারের সদস্য। ওই খাসির সঙ্গে আমাদের এমন সম্পর্ক হয়েছিল যে, বড় ভাই পড়তে বসলেও খাসিটি পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত। আমরা ওকে ডাক দিলেই দৌড়ে চলে আসত। অথবা আমরা রাস্তা কিংবা নদীর পাড় দিয়ে যাচ্ছি, আমাদের দেখলেই কাছে আসতো। খাসিটার সঙ্গে আমাদের ভাবগত এমন সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল।

আব্বা সে-বছর কোরবানির ঈদের সময় সিদ্ধান্ত নিলেন, ওই খাসি কোরবানি দেবেন। শোনার পর আমাদের খুব মন খারাপ হলো। কিন্তু আব্বা শুনলেন না। ঈদের দিন ওই খাসিই কোরবানি দেয়া হলো। সেবার সত্যি খুব কষ্ট লেগেছিল। কষ্টা এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে, ওই ঈদে শেষ পর্যন্ত আমরা মাংস খেতে পারিনি। এই স্মৃতিটা মনে খুব দাগ কেটে আছে।

আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত মানুষ শো-আপ করার জন্য কিছু করতো না। বর্তমান সময়ে মানুষের মধ্যে শো-আপের একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। যেমন কোরবানির ঈদে একজন ৮০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনছে, এখন আমাকেও ১ লাখ টাকা দিয়ে গরু কিনতে হবে। না হলে সম্মান থাকবে না। আবার কেউ বেশি দামে গরু কিনলে অন্যজন উট কিনে আনছেন। এগুলো খুবই দুঃখজনক ঘটনা। একটি বিষয়ে কথা বলতে চাই, যদিও জানি না মানুষ কীভাবে নেবে, তবু বলছি, একজন দ্বিতীয় গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা ১ লাখ টাকা দামের গরু কোরবানি দেয় কিংবা একজন পুলিশ কর্মকর্তা যখন উট কোরবানি দেয় তখন বোঝাই যায় তার টাকার উৎস কোথায়। আগেও দুর্নীতি বা ঘুষ খাওয়ার ঘটনা ঘটত, তবে সেটা খুব আড়ালে। এতটা খোলামেলা ছিল না।

ফরিদপুর থেকে আমি যখন ঢাকা আসি তখন দেখি, এখানে প্রচুর গরু কোরবানি হয়। কিন্তু ফরিদপুর শহরে এত গরু কোরবানি করতে দেখিনি। আমি তখন কারণ খুঁজে বের করি। তা হলো- ফরিদপুর শহরে সমসংখ্যক মুসলমান ও হিন্দু বসবাস করত। শহরের বেশির ভাগ হোটেলে গরুর মাংস পাওয়া যেত না। ছোটবেলায় যখন ফরিদপুর শহরের মেইন রোড ধরে হেঁটে যেতাম, তখন বেশির ভাগ হোটেলের সামনে লেখা দেখতাম ‘নো বিফ’। তখন ‘বিফ’ শব্দের অর্থ আমি জানতাম না। পরে জানতে পারি ‘বিফ’ শব্দের অর্থ গরুর মাংস। যাই হোক, কোরবানির ঈদে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য ওখানে গরু কোরবানি দিতো না। কারণ এমন নয় যে, গরু কোরবানি না দিলে কোরবানি হবে না। তা নয়! তাহলে আরেক ধর্মের অনুসারীদের মনে কষ্ট দেয়ার দরকারটা কি! এমন যদি হয়, আমি যে বাড়িতে থাকি সে বাড়িতে কোনো হিন্দু পরিবার নাই, তাহলে গরু কোরবানি দিতে সমস্যা নেই। ফরিদপুরের মানুষের মধ্যে এই বোধটা আগেও ছিল এখনো আছে। ফরিদপুরে কখনো হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গা হয়নি; ১৯৪৭ সালেও হয়নি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সৈন্য ও রাজাকাররা অবশ্য হিন্দুদের হত্যা করেছিল। তা ছাড়া এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো বিরোধ দেখিনি। যা এখনো অটল রয়েছে।

অনুলিখন : আমিনুল ইসলাম শান্ত

তথ্য: রাইজিং বিডি

x

Check Also

হিরো আলমকে দেখতে ভিড়, সিনেমা হলে দর্শক নেই

মহামারি করোনার কারণে দীর্ঘ সাত মাস পর শর্ত সাপেক্ষে গতকাল (১৬ অক্টোবর) দেশের সিনেমা হলগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। ৪০টি হলে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘সাহসী হিরো আলম’। যদিও অধিকাংশ হলে দর্শক উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু ...

নজর কেড়েছে জোড়াতালির ‘গেন্দা ফুল’ (ভিডিও)

একদিকে বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের আবেদনময়ী উপস্থিতি। অন্যদিকে কোমরে প্রজাপতি ট্যাটু নিয়েও লাল পাড়, সাদা শাড়িতে বাঙালি নারী দেবলীনা। বাদশার উপস্থিতি যেমন রয়েছে, তেমনি পণ্ডিত বিক্রম ঘোষের তবলা মিক্স ও রতন কাহারের নাচ কারো দৃষ্টি ...

মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে চান অপু

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। কিছুদিন আগে মা শেফালি বিশ্বাসকে হারিয়েছেন তিনি। সেই শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি এই অভিনেত্রী। কিন্তু সময় থেমে থাকে না। বছর ঘুরে ফিরে এসেছে অপুর জন্মদিন। বিশেষ এ দিনে ...

শিরোনামঃ