পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > বিনোদন > চরিত্রের প্রয়োজনে ন্যুড শট দিতেও রাজি: জ্যোতি

চরিত্রের প্রয়োজনে ন্যুড শট দিতেও রাজি: জ্যোতি

‘আয়না’, ‘নন্দিত নরকে’, ‘জীবনঢুলী’, ‘অনিল বাগচীর একদিন’ সিনেমায় অভিনয় করে জ্যোতিকা জ্যোতি অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ রেখেছেন। কলকাতায় জ্যোতি অভিনীত ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ প্রশংসিত হয়েছে। সম্প্রতি এই অভিনেত্রী রাইজিংবিডি কার্যালয়ে এসেছিলেন। এসময় অভিনয়, ঢাকা ও কলকাতার চলচ্চিত্র এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কথা বলেন। রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য সেই আলাপচারিতার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-

RK: এখন চলচ্চিত্রের মন্দা সময় যাচ্ছে। আপনার ব্যস্ততা কতটুকু?

জ্যোতিকা জ্যোতি: গত বছরের শেষ দিকে ‘মায়া: দ্য লস্ট মাদার’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে। এই সিনেমার কাজ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিলাম যে, অন্য কাজ করার সুযোগ পাইনি। দেশে নতুন দুটো সিনেমায় অভিনয়ের কথা হচ্ছে। কলকাতায়ও কাজ করব। সুতরাং এ বছর আরো ব্যস্ত সময় কাটবে আশা করছি।

RK: ‘মায়া: দ্য লস্ট মাদার’ সিনেমায় কেমন সারা পেলেন?

জ্যোতিকা জ্যোতি: অসাধারণ! সিনেমাটি দেখার পর সবাই অভিনন্দন জানিয়েছে। অনেকে এতটাই আবেগাপ্লুত ছিলেন যে, অনেকক্ষণ কথা বলতে পারেননি। জড়িয়ে ধরে রেখেছেন। এ কথাও শুনেছি যে, এই সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাব। আসলে গ্রামীণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছি। ফলে অভিনয়টা ন্যাচারাল ছিল।

RK: কিন্তু সিনেমাটি মুক্তির আগে পরিচালকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। খোলামেলা পোস্টারের কারণেও বিতর্ক ছিল। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

জ্যোতিকা জ্যোতি: সিনেমার পোস্টার নিয়ে যে সমালোচনা হয়েছে সেখানে আমাকে ব্যবহার করা হয়নি। অর্থাৎ ওই ফটোগ্রাফ আমার নয়। অন্য একটা মেয়েকে দেখানো হয়েছে। ওটা আসলে ১৯৭১ সালে আমার মায়ের গল্প। ফ্ল্যাশব্যাকে দেখানো হয়।

RK: কলকাতায় ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ মুক্তির পর কেমন সারা পেলেন?

জ্যোতিকা জ্যোতি: প্রথমত একটু টেনশনে ছিলাম। কারণ আমি যেহেতু বাংলাদেশ থেকে গিয়েছি। পরে সাধারণ দর্শকের ভালোবাসা পেয়ে মনেই হয়নি কথাটা। এর কারণও রয়েছে। রাজলক্ষ্মীকে যেভাবে দেখেছেন, সিনেমায় ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ওরা খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছে।

RK: দুই দেশের কাজের পার্থক্য কী মনে হলো?

জ্যোতিকা জ্যোতি: ওখানকার সিস্টেমটা প্রফেশনাল। ওখানে কাজ করতে কমফোর্ট লাগে। ওরা খুব টাইম মেইনটেইন করে। ওরা পারসোনাল লাইফেও টাইম মেইনটেইন করে। টেকনোলজির দিক থেকে ওরা আপডেট। মেধার জায়গা থেকে কোনো অংশেই আমাদের এখানেও কম নয়। বরং এখানে শিল্পী ও কলাকুশলীদের ডেডিকেশন আরো বেশি। এখানে সবাই বাড়তি তিন-চার ঘণ্টা কাজ করে। ওখানে এক মিনিটও বেশি কাজ করবে না। এখানকার সিস্টেম নন প্রোফেশনাল। ওখানে শিল্পীরা কাজ করলে ফোকাস হয়ে যায়। যেমন-শাকিব খান ওখানে কাজ করার পরে আলাদা ফোকাস হয়েছে। তার মানে ওখানে একটা ভিন্ন ব্যাপার আছে।

RK: কাজ করতে গিয়ে কখনও তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন?

জ্যোতিকা জ্যোতি: দু’একটা ঘটনা সারা পৃথিবীতেই ঘটে। শুধু মিডিয়ায় নয়, স্কুল কলেজেও ঘটে। আমি এখন পর্যন্ত খারাপ কিছু ফেইস করিনি। শুরুর সময় অনেকে অনেক রকম প্রস্তাব দিয়েছে। অনেকেই মনে করত- নতুন মেয়ে, ওকে নানাভাবে ইউজ করা যাবে। আমিও মনে মনে ভেবে নিয়েছি- কম্প্রোমাইজ করব না। পরিবার থেকে নিষেধ ছিল। ২০১৫ সাল পর্যন্ত আমি দেশের বাইরে কাজে করতে যাইনি। কারণ অনেকেই বলত- জানোই তো দেশের বাইরে কী হয়!

RK: সেগুলো তো এখানেও হতে পারে!

জ্যোতিকা জ্যোতি: হ্যাঁ। যেমন হয়ত বলল- এক্সট্রা একটু টাইম দিতে হবে। আমি জানতে চাইতাম- এক্সট্রা কী? শুটিংয়ের পরে সময় দিতে হবে কি না? তখন হয়ত বলত- আরে বুঝোই তো প্রযোজককে একটু সময় দিতে হবে। তখন মুখের ওপর ‘না’ বলে দিতাম।

RK: মূলধারার চলচ্চিত্রে আপনাকে দেখছি না কেন?

জ্যোতিকা জ্যোতি: মূলধারার সিনেমায় কাজ করার খুব ইচ্ছে। প্রস্তাবও ছিল। কিন্তু অনেক সময় মিটিং করতে গিয়ে দেখেছি তাদের তাকানো ঠিক নেই, কথাবার্তার ঠিক নেই। ফলে কাজ করা হয়নি। তবে সবাই এমন না। তখন আমি ভয় পেতাম। দশটি সিনেমার প্রস্তাব পেয়ে থাকলে এর মধ্যে পাঁচটা এসবের জন্য, বাকি পাঁচটা গল্প বা বাজেটের কারণে করা হয়ে ওঠেনি। এখন ভালো সিনেমা হচ্ছে। আমি খুব আশাবাদী আবার এদেশের চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াবে। তাছাড়া এখন আর কেউ নোংড়া প্রস্তাব দেয় না। দৃষ্টিভঙ্গীতেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। যে পোশাকে আমাকে ভালো দেখায় আমি তো সেই পোশাকই পরব। আন্তর্জাতিকতা মাথায় রেখে যখন কাজ করব তখন তেমন পোশাকই পরতে হবে। যেমন ‘টাইটাইনিক’ সিনেমাটি যদি করতাম ওখানে ন্যুড শট দিতে হতো। চরিত্রের প্রয়োজনে এমন ন্যুড শট দিতে রাজি আছি।

x

Check Also

ক্রিকেটারের সঙ্গে প্রেম নিয়ে আনুশকার বক্তব্য

জনপ্রিয় অভিনেত্রী আনুশকা শেঠি। ভারতের তেলেগু ও তামিল ভাষার সিনেমাতে অভিনয় করেন। বাহুবলি সিনেমায় দেবসেনা চরিত্রে অভিনয় করে বিশেষ খ্যাতি পেয়েছেন তিনি। এই অভিনেত্রীকে ঘিরে প্রেমের গুঞ্জন নতুন নয়। অভিনয় ক্যারিয়ারে শুরু থেকেই বিভিন্ন সময়ে ...

‘ভালোবাসতাম, ভালোবাসি এবং ভালোবাসব’

ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পাল। আজ মঙ্গলবার ভোরে তিনি মারা গেছেন। প্রিয় অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তার ভক্ত এবং সহকর্মী। প্রয়াত এই অভিনেতার সঙ্গে অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী রচনা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, ...

দুজনের বয়স যখন বড় বাধা

সব্যসাচী চক্রবর্তীর বন্ধু সুবর্ণা মুস্তাফা। প‌রিণত বয়সের দুজন মানুষের সম্পর্ক নিয়ে শুরু হয় সন্দেহ। বাবাকে দাঁড়াতে হয় সন্তানের মু‌খোমু‌খি। সব্যসাচী যু‌ক্তি দেখান, এই শহরে সেও আমার মত একা। গত একমাস আমরা খুব সুন্দর সময় কাটিয়েছি। ...

শিরোনামঃ