পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > ফিচার > কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো এখন গরীবের হাসপাতাল হিসেবেই পরিচিত

কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো এখন গরীবের হাসপাতাল হিসেবেই পরিচিত

শিল্পী রাণী হালদারঃ স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। দেশের শতকরা প্রায় ৮০ শতাংশ লোকই গ্রামে বাস করে। আর তার অধিকাংশই দরিদ্র। আমাদের সমাজে অনেক অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষ রয়েছে। যারা দু’বেলা দু’মুঠো খাবার যোগাড় করতেই
হিমশিম খায়, তারা কী করে রোগের চিকিৎসার কথা ভাববেন? আর এই অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষেগুলোর কথা ভেবেই বর্তমান সরকার তাদের স্বাস্থ্যসম্মত জীবন নিশ্চিত করতে ১৯৯৮ সালে সারা বাংলাদেশে চালু করেছে কমিউনিটি ক্লিনিক।

এসব ক্লিনিকে বিনামূল্যে হাতের কাছেই মিলছে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সেবা। ফলে অনেকের কাছে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো এখন গরীবের হাসপাতাল হিসেবেই পরিচিত।

অপ-চিকিৎসা ও সুচিকিৎস্যার অভাবে এখন আর অকালে প্রাণ হারাতে হচ্ছে না সাধারন গরীব মানুষদের। কমিউনিটি ক্লিনিকের সার্বিক দেখাশোনা ও প্রচারনার কাজে নিয়োজিত আছেন এলাকার মানুষেরাই। ৭ দিনের ৬ দিনই সকাল ৯ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত নানা ধরণের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসছে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। সময়ের সাথে সাথে বাড়ছে এ সেবার পরিধি ও মান। বর্তমানে
প্রতি মাসে ৮০-৯০ লাখ মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সেবা নেন। প্রায় ৯১ দশমিক ৩ শতাংশ শিশুকে টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। গত ১০ বছরে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বেড়েছে ৭ গুণ। পোলিও এবং ধনুষ্টংকারমুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ।

পাঁচপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা আক্তার বাণু জানান, আগে আমাদের এখানে কোন ক্লিনিক ছিল না। ফলে আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হতো। সাধারণ চিকিৎসার জন্য আগের মতো এখন আর ১০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে উপজেলা সদরে যেতে হয়না। বাড়ির পাশে হাতের কাছেই মিলছে স্বাস্থ্য সেবা। ফলে যাতায়াত বিড়ম্বনা যেমন কমেছে তেমনি কমেছে নানা ভোগান্তিও। বাড়ির কাছে কমিউনিটি ক্লিনিক পেয়ে অনেকটাই খুশি গ্রামের সাধারন মানুষ।

কমিউনিটি ক্লিনিকে গর্ভকালীন মায়েদের দেওয়া হচ্ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সেবা। অনেকে বলেন যে, গর্ভবতী মা যারা বাচ্চা জন্ম দেবার সময় অকালে প্রাণ হারাতেন তারা এখন অনেকটা সচেতন হতে পারছেন গ্রাম অঞ্চলে গড়ে ওঠা এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে। এ বিষয়ে এফ.ডাবলু.এ প্রকল্পের মোসা:শাহানাজ আক্তার জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকে গর্ভবতী মায়েরা আসেন। গর্ভকালীন সময়ে কমপক্ষে চার বার চেক-আপ করার পাশাপাশি আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফলিক এসিড ও বিপি মাপা হয় এখানে।

কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে প্রায় ৩০ ধরণের ঔষধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। শুধু ঔষধ নয়, দেওয়া হচ্ছে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবা, বয়সঃসন্ধি কাল ও প্রজনন স্বাস্থ্য সর্ম্পকিত নানা পরামর্শও। এমনটাই জানান, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার মোসা: ইসমে আক্তার।

কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রাম অঞ্চলের প্রচলিত ঝাড়-ফুঁক ও তাবিজ- কবজের মাধ্যমে কবিরাজি চিকিৎসাগুলো অনেকটাই বন্ধ হয়ে এসেছে। বাড়ির কাছে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছে অনেকেই। সেই সাথে সব ধরণের ঔষুধ ও সেবা এখান থেকে পেলে অবহেলিত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবার মান আরো বাড়বে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

লেখক: শিল্পী রাণী হালদার, কমিউনিটি মিডিয়া ফেলো, রেডিও বড়াল, বাঘা।

শিরোনামঃ