পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > ফিচার > বাংলাদেশ একটি স্বপ্ন, একটি প্রত্যয়ের নাম

বাংলাদেশ একটি স্বপ্ন, একটি প্রত্যয়ের নাম

শিল্পী রাণী হালদার: একটি স্বপ্ন, একটি প্রত্যয়ের নাম বাংলাদেশ। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই দেশ। বিরাট এক পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জিং মুহুর্তের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। তবে দিনে দিনে মানুষের নিত্য দিনের কাজগুলো সহজ হয়ে উঠেছে ডিজিটাল প্রযুক্তির বদৌলতে। আর সরকারি সহায়তার ফলে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে লেগেছে এই ডিজিটালের ছোঁয়া। ফলে বদলে গেছে গ্রামের সাধারণ মানুষদের জীবন যাত্রার মান।

ইন্টারনেটে বার্তা আদান-প্রদান বাড়িয়ে তুলেছে কাজের গতি। ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন তথ্য, চাকুরীর খবরা খবর খুব সহজে হাতের কাছেই পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিশে^র যে কোন প্রান্তে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষ।

শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। আর এই শিক্ষার মানকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে সরকার চালু করেছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম। প্রজেক্টরের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়ার ফলে বদলে গেছে পড়ালেখার মান। খুব সহজে ক্লাসেই পড়া রপ্ত করতে পারছে শিক্ষার্থীরা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও এর সুফল পাচ্ছেন। কেননা প্রত্যন্ত চরাঞ্চলেও ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার ঘটাতে সৌর বিদ্যুতের মাধম্যে পরিচালিত হচ্ছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস। যেখানে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি হাতে কলমে তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞান লাভের সুযোগ পাচ্ছে। ফলে পাল্টে গেছে চরাঞ্চলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার চিত্রও।

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে সবচেয়ে এগিয়ে তরুণ প্রজন্ম। স্মার্টফোন ব্যবহারে একাধিক সুবিধার ফলে তরুণরা আরো বেশি উৎসাহি হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তির দিকে। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ^র ডিগ্রী কলেজের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী নাহিদ হোসেন বলেন, এখন আর কর্মসংস্থান নিয়ে ততটা মাথা ঘামাতে হয়না। কেননা ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজের
কর্মস্থান নিজেরা তৈরি করে নিতে পারছি। এছাড়া ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় অনেকেই মৎস চাষ, গবাদি পশু পালন কিংবা খামার পালনের দিকে ঝুঁকছে। শুধু তাই নয় এসব খামারে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি অন্য বেকার যুবকদেরও কর্মস্থানের সুযোগ মিলছে।

ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, অনলাইনে বিশ^বিদ্যালয়ের ভর্তি থেকে শুরু করে পড়াশোনার যাবতীয় তথ্য পাচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এমনও গ্রাম আছে যেখানে বিদ্যুতের আলো দেওয়া সম্ভব ছিলো না সেখানেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে সোলারের আলো।

মোবাইল ও ইন্টানেটের কারণে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে বিভিন্ন সেবা। বহির বিশে^ দ্রুত যোগাযোগের সংযোগ স্থাপন এখন আর বড় কোন সমস্যা নয়। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে নানাধরণের তথ্য সেবা। স্যাটেলাইট কিøনিকের মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষের সেবার মান বেড়েছে বহুগুণে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাক্ষাত পেতে এখন আর দূরের গ্রাম থেকে শহরে যেতে হয়না। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জটিল কাজগুলোও খুব সহজে রূপান্তরিত হয়েছে। এতে করে বাড়তি খরচ কমছে এবং দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সেবাও মিলছে।

ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জীবন বীমা, পল্লী বিদ্যুতের বিল পরিশোধ, সরকারি ফরম, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্ড, নাগরিক আবেদন সহ জাতীয় পরিচয় পত্র, তথ্যসহ ফর্ম ফিলাপ সংশোধন এর সুবিধা মিলছে অনলাইনে। কৃষকরা তাদের প্রয়োজনীয়
সেবা পাচ্ছে অনলাইনে। এছাড়াও বিদ্যুতের সুফলে সেচ কাজে এসেছে বাড়িত সুবিধা।

বাংলাদেশ সরকার শুধু শহর পর্যায়ে নয় কাজ করছেন গ্রাম এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের মানুষদের জন্যও। ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে দেশ ব্যাপি নানা ধরণের কার্যক্রম বাস্তাবায়ন করে চলেছে সরকার। ডিজিটাল সুবিধার মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞানে প্রতিটি নাগরিককে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই তৈরি হবে সুখি সমৃদ্ধশালী অপার সম্ভাবনাময় এক বাংলাদেশের। এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে। কাজ করতে হবে কাঁধে কাঁধ
মিলিয়ে একসাথে। তবেই না আগামীর স্বপ্নটা আমাদের হবে।

শিরোনামঃ