পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > আন্তর্জাতিক > করোনাভাইরাস : পাল্টে গেছে চীনাদের জীবন

করোনাভাইরাস : পাল্টে গেছে চীনাদের জীবন

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চীনাবাসীর জীবনযাপন রীতিমত পাল্টে গেছে।

এখন মহামারীর সাথে খাপ খাওয়াতে সৃষ্টিশীল চিন্তাভাবনা শুরু করেছে চীনাবাসী।

মুখের মাস্ক চীনে সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। জনসমাগম বেশি এমন জায়গায় জীবাণু সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে কিংবা দূষণ থেকে মুক্ত থাকতে ব্যবহার করা। চীন ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে বাজারে পাওয়া যাবেনা সেটি অবাক করার মতো কোনো বিষয় নয়।

কিন্তু করোনাভাইরাস ঠেকাতে এগুলো এখন বিক্রি হচ্ছে হট কেকের মতো। অনেক দোকানেই টাঙানো হয়েছে ‘সোল্ড আউট’ সাইনবোর্ড। যদিও ভাইরাস প্রতিরোধে এগুলো কতটা কার্যকর সে সম্পর্কে প্রশ্ন থেকেই যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে শুধু মাস্ক যথেষ্ট নয়- হাত ধোয়াটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেখানে দেখা দিয়েছে মাস্কের সাথে হ্যান্ড স্যানিটাইজ পণ্য সঙ্কট।

কর্তৃপক্ষ এক কোটিরও বেশি মানুষের শহরে গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে এবং লোকজনকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। প্রতিবেশীদেরও ওপর দেয়া হচ্ছে নানা বিধি নিষেধ। একটি পরিবার থেকে বিশেষ প্রয়োজনে একজন বাইরে পাঠানোর অনুমতি আছে। যারা যাচ্ছে তাদের তথ্যও সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

ডেলিভারি সার্ভিসগুলোও নতুন পন্থা বের করেছে। তারা লকার ব্যবহারে উৎসাহিত করতে সরাসরি সাক্ষাৎ এড়ানোর জন্য।

ভবনের ভেতরে লিফটগুলোতে টিস্যু বা টুথপিক রাখা হচ্ছে।

চীনা জুটিগুলোর বিয়ের জন্য ০২-০২-২০২০ ছিল বিশেষ দিন। তবে কর্তৃপক্ষ বেইজিং ছাড়া অন্যত্র বড় জমায়েত এড়াতে বিয়ে রেজিস্ট্রি বন্ধ ঘোষণা করেছে।

সিচুয়ান প্রদেশে ৫ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে যেটি উহানের এক হাজার কিলোমিটার পশ্চিমে। মানুষজন তখন দ্বিধান্বিত ছিল। তারা ঘরে থাকবে নাকি বাহিরে বের হবে বুঝে ওঠতে পারছিল না। ঘরে থাকলে ভবন ধ্বসে মারা যাওয়ার শঙ্কা আর বাইরে গিয়ে করোনাভাইরাসের মুখে পড়া।

আটকে পড়া শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তাদের সম্পর্ককে নিয়ে গেছে অনলাইনে। চীনের রাষ্ট্রীয় পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস বলছে পহেলা ফেব্রুয়ারির পর এক কোটি বিশ লাখ শিক্ষার্থী অনলাইনে শিক্ষাগ্রহণ করেছে।

গবেষকরা চেষ্টা করছেন করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও প্রতিকারে ভ্যাকসিন অবিষ্কারের জন্য। অন্যদিকে আটকে পড়া মানুষ নিজের মতো করে সংকট মোকাবেলায় বের করছে সমাধান।

তবে বিজ্ঞানীরা তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বলছে সিভিয়ার অ্যাকুইটি রেসপিরেটরি সিনড্রোমের (সার্স) চেয়ে করোনাভাইরাসে মৃত্যু আশঙ্কা কম। ২০০৩ সালে যখন সার্স ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লো তখন চীনের গণপরিবহন জীবাণুমুক্ত করতে প্রচুর স্প্রে করা হতো। গণপরিবহনে অনেক সময় যাত্রীরা না বুঝেই পরিচ্ছন্ন আসনে বসে পড়তো এবং পরে দেখা যেতো তার ট্রাউজার ধবধবে সাদা।

সার্স ভাইরাসে ২০০২ থেকে ২০০৩ সালে চীনে ও হংকংয়ে প্রায় সাড়ে ৬০০ মানুষ মারা যায়।

x

Check Also

করোনাভাইরাসে এক বাংলাদেশি আক্রান্ত

প্রথমবারের মতো এক বাংলাদেশির করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার সিঙ্গাপুর সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরে এ পর্যন্ত ৪৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এই তালিকায় একজন বাংলাদেশি রয়েছেন। ৩৯ ...

আইসিজের আদেশ প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারের

রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই কথা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, আদালত পরিস্থিতির ‘বিকৃত চিত্র উপস্থাপন’ করেছে। কোনো দেশের ...

লেবাননে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৪০০

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে প্রায় ৪০০ লোক আহত হয়েছে। শনিবার রাতে এ সংঘর্ষ ঘটে। গত তিন মাস ধরে লেবাননে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ চলছে। গত বছরের শেষ ...

শিরোনামঃ