পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > আন্তর্জাতিক > মহামারির কোনো খবরই জানেন না এই দম্পতি!

মহামারির কোনো খবরই জানেন না এই দম্পতি!

সমকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে আলোচিত বিষয় করোনাসৃষ্ট মহামারি। বিশ্বের তাবৎ সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পার্লামেন্ট সর্বত্র; সবার মুখে এই আলোচনা। কিন্তু শুনে অবাক হবেন যুক্তরাজ্যের এক দম্পতি জানেনই না এই মহামারির খবর। তাদের কানে পৌঁছেনি এতো বড় দুর্যোগের কথা!

ওই দম্পতির নাম রায়ান অসবোর্ন ও ইলোনা ম্যানহিগিতি। বসবাস যুক্তরাজ্যের ম্যানচেষ্টারে। দুজনেরই শখ ভ্রমণ করা। নিজেদের এই শখ বজায় রাখতে ২০১৭ সালে তারা চাকরি ছেড়ে দেন। সময় করে লম্বা সফরে বেরিয়ে পড়েন দুজন। সাগরে ভেসে বিশ্বভ্রমণ করা তাদের উদ্দেশ্য।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে তারা স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ থেকে ইয়টে করে সমুদ্র যাত্রায় বের হন।

উদ্দেশ্য আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানো। যাত্রা শুরুর সময় তারা শুধু জানতেন চীনের উহানে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ তখনও ইউরোপে প্রাণঘাতি এই ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়নি।

২৫ দিনের যাত্রা শেষে তারা ক্যারিবিয়ান উপকূলে একটি ছোট দ্বীপে নামার চেষ্টা করেন। কিন্তু উপকূল থেকে তাদের জানানো হয়, করোনা মহামারির কারণে গোটা দ্বীপ লকডাউন করা হয়েছে। এ খবর শুনে তারা হতবাক! তাদের ধারণাই ছিল না, করোনা এভাবে এতো দ্রুত চীন থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে মহামারি সৃষ্টি করতে পারে। তাদের এই ঘটনা না-জানার আরেকটি কারণ হলো, সমুদ্র যাত্রা শুরুর সময় তারা পরিবারকে বলে রেখেছিলেন, তাদের যেন কোনো দুঃসংবাদ দেওয়া না হয়। ফলে যাত্রা শুরুর প্রথম কয়েকদিন পরিবারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ হলেও, এক সময় তারা নেটওয়ার্কের বাইরে চলে যান। যে কারণে তারা পৃথিবীতে এতো কিছু ঘটে গেছে জানতেই পারেনি।

তীরে ভিড়তে না পেরে তারা এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বন্ধু তাদের জানান, করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। গোটা ইউরোপ লকডাউনের মধ্যে রয়েছে। চীন, ইতালি, স্পেন, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে। এই খবরে তারা হতবাক হয়ে পড়েন। দ্রুত তারা যোগাযোগ করেন পরিবারের সঙ্গে। পরিবার থেকে জানানো হয়, করোনা কেড়ে নিয়েছে তাদের অনেক আপনজনকে।

ভাঙা মন নিয়ে তারা পুনরায় যাত্রা করেন গ্রানাডা দ্বীপের দিকে। সেখানেও তাদের কূলে নামতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে তারা সেখানেই রয়েছেন। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, করোনা মহামারির দাপট না কমা পর্যন্ত সমুদ্রে ভেসে থাকবেন। তবে তাদের মাথায় নতুন দুশ্চিন্তা ভর করেছে।

জুনে ক্যারিবিয়ান সাগরে ঝড় বেশি হয়। ফলে ঝড়ের মৌসুম শুরুর আগেই নিজ দেশে অথবা অন্য কোনো দেশে আশ্রয় নিতে চান। কিন্তু কী হবে তা এখনো অনিশ্চিত! বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইলেনা ম্যানহিগিতি বলেন, করোনাভাইরাস ও ঝড়ের মধ্যে আমরা স্যান্ডউইচের মতো জীবনযাপন করছি।

x

Check Also

করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি নাইজেরিয়ার বিজ্ঞানীদের

আফ্রিকা মহাদেশের নাইজেরিয়ার বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরাস রোখার টিকা আবিষ্কার করেছেন বলে দাবি করেছেন শনিবার (২০ জুন)। ৭.৮ নাইজেরিয়ান নাইরাস খরচে এই টিকা তৈরি করেছেন তারা। প্রাথমিকভাবে কেবল আফ্রিকার জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যবহার করা হবে এই টিকা। পরবর্তীতে ...

ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণার বিজ্ঞাপন মুছে দিলো ফেসবুক

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেরিফায়েড প্রোফাইলে দেওয়া একটি বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক মুছে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮) ফেসবুকের সিকিউরিটি পলিসির প্রধান নাথানিয়েল গ্লেইসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর বিবিসি ও সিএনএনের। মূলত ওই ...

১০৩ দিন পর সকল বিমানবন্দর খুলছে মিশর

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে ১৯ মার্চ সকল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করার পাশাপাশি বিমানবন্দরগুলো বন্ধ করে দেয় মিশর। ১০৩ দিনের মাথায় অবশেষে আবার সবগুলো বিমানবন্দর খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিশর সরকার। খবর আল জাজিরার। ১ জুলাই থেকে দেশটির ...

শিরোনামঃ