পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > আন্তর্জাতিক > যুক্তরাষ্ট্র > জাতিসংঘে যোগ দিয়েই মার্কিন দূতের হুমকি

জাতিসংঘে যোগ দিয়েই মার্কিন দূতের হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত নিকি হেলি জাতিসংঘে যোগ দিয়েই মিত্র দেশগুলোর প্রতি হুমকি দিলেন।

জাতিসংঘের বিভিন্ন ইস্যুতে যারা যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করবে না, তাদের তালিকা করে সে অনুযায়ী জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন হেলি।

শুক্রবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এর মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে নিজের পরিচয়পত্র জমা দিয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেন নিকি হেলি। এরপর সাংবাদিকদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন তিনি।

হেলি বলেন, ‘আমাদের প্রশাসনের লক্ষ্যের সঙ্গে জাতিসংঘে আমার মূল্যায়ন তুলে ধরতে চাই এবং একই পথে আমরা আমাদের সামার্থ্য, আমাদের বক্তব্য তুলে ধরতে চাই, আমাদের মিত্রদের সমর্থন চাই এবং মিত্রদেরও আমরা সমর্থন করতে চাই।’

জাতিসংঘে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই প্রতিনিধি আরো বলেন, ‘মিত্রদের মধ্যে যারা আমাদের সমর্থন করবে না, আমরা তাদের নামের তালিকা করছি এবং সে অনুযায়ী তাদের জবাব দেওয়া হবে।’

নিকি হেলি সাউথ ক্যারোলাইনা রাজ্যের গভর্নর ছিলেন। নির্বাচনে জয়ের পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘে তার প্রতিনিধি হিসেবে তার নাম ঘোষণা করেন। কূটনীতি ও কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ে কাজ করার খুবই কম অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত ফ্রাঁসোয়া ডেলাট্রে ও ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ম্যাথিও রাইক্রফট জানিয়েছেন, তারা নিকি হেলির সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চান। উল্লেখ্য, জাতিসংঘে ভেটো ক্ষমতার অধিকারী পাঁচ দেশ যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন। তবে নিকি হেলির হুমকির বিষয়ে রাশিয়া ও চীন কোনো মন্তব্য করেনি।

গুতেরেসের সঙ্গে হেলির আলোচনার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘জাতিসংঘের সংস্কার নিয়ে যৌথভাবে কাজ করা সম্পর্কে ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’

সাংবাদিকদের হেলি বলেন, ‘জাতিসংঘে যা কিছু ভালো হচ্ছে, তা আরো ভালো করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, যা কিছু ভালো হচ্ছে না, তা ভালো করার চেষ্টা করবে এবং যা কিছু অকার্যকর ও অপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে, তা বাদ দিতে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন, অ্যাটর্নি জেনারেল ও জাতীয় গোয়েন্দা প্রধানকে নিয়ে জাতিসংঘের গত এক বছরের কার্যক্রম সম্পর্কে একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠন করতে চান ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেবে এই কমিটি। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো আদেশ জারি করেননি ট্রাম্প।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র কী পরিমাণ তহবিল দেয়?

একক দেশ হিসেবে জাতিসংঘে সবচেয়ে বেশি তহবিল দেওয়া দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র। মোট মূল বাজেটের ২২ শতাংশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। চলতি অর্থ বছরের জাতিংঘের মোট মূল বাজেট ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যার ২২ শতাংশ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের মোট বাজেট ৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যার ২৮ শতাংশ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের গঠনকাঠামো অনুযায়ী প্রতিশ্রুত এ পরিমাণ বাজেট দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর বাইরে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, শিশু তহলিব ইউনিফেস, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও কল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানে আলাদাভাবে মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে থাকে দেশটি।

গত বছর ২৩ ডিসেম্বর নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের ভোটে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ হলে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের বিরুদ্ধে টুইটারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। এই প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ভোট না দিলেও ভেটো দেয়নি, ফলে প্রস্তাব পাশ হয়। তবে ট্রাম্প তখন হুঁশিয়ার করেন, তার অভিষেকের পর প্রেক্ষাপট ভিন্ন হবে।

মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু, শরণার্থী, ত্রাণসহায়তা ও ইসরায়েলের বসতি নির্মাণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জাতিসংঘ ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে বিরোধী অবস্থান ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

তথ্যসূত্র : রয়টার্স অনলাইন।

x

Check Also

হিজাব পরায় বের করে দেওয়া হলো!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হিজাব পরায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এক মুসলিম-আমেরিকান নারী। ব্যাংক কর্মকর্তারা হুমকি দেন, হিজাব খুলে না ফেললে পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেওয়া হবে তাকে। এ অভিযোগ করেছেন জামেলা ...

মুখ খুললেন ‘হিলারির পরাজয়ের কারণ’ কোমে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের পরাজয়ের জন্য হিলারি ক্লিনটন দায়ী করেছিলেন এফবিআইয়ের তৎকালীন পরিচালক জেমস কোমেকে। এবার মুখ খুললেন সেই কোমে। এক সিনেট কমিটির শুনানিতে তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে হিলারির ই-মেইল ...

ট্রাম্পের ১০০ দিনে উত্তর কোরিয়ার হালহকিকত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এ বছরের  ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেক হওয়ার সময় উত্তর কোরিয়া নিয়ে তার নতুন প্রশাসনের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার ছিল না। সেই থেকে এখন তিন মাস পার করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ...

শিরোনামঃ