পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > জীবনযাপন > মুরগির মাংস রান্নার আগে ৮ ভুল

মুরগির মাংস রান্নার আগে ৮ ভুল

মুরগির মাংস রান্না করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সচেতন না হলে তা আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এখানে কাঁচা মুরগির মাংস সম্পর্কিত ৮টি ভুল দেওয়া হলো, যা সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

* ঘরের তাপমাত্রায় বেশিক্ষণ রেখে দেওয়া
অনেকে বাজার থেকে জবাইকৃত মুরগি বা মুরগির মাংস এনে ঘরে অনেক্ষণ ফেলে রাখে। কিন্তু কক্ষ তাপমাত্রায় কাঁচা মাংসে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বিকশিত হতে পারে এবং এ মাংস খেলে বিভিন্ন খাদ্যবাহিত অসুস্থতা বা ফুড পয়জনিং হতে পারে।

যা করবেন : বাজার থেকে জবাইকৃত মুরগি বা মুরগির মাংস এনে তৎক্ষণাৎ ফ্রিজে রেখে দিন। তখনই বের করবেন, যখন আপনি এটি রান্নার জন্য প্রস্তুত।

* সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা
কাঁচা মুরগির মাংস লিক প্রবণ এবং পাত্রের বাইরে ফোঁটা ফোঁটা তরল ঝরে। এটি মন্দ খবর হতে পারে, যদি এই তরল আপনার কৃষিজাত খাবারের সংস্পর্শে আসে।

যা করবেন: কোনো প্লেটের ওপর মুরগির মাংস রেখে কভার দিয়ে দিন এবং ফ্রিজের নিচের দিকে সংরক্ষণ করুন।

* রান্নার পূর্বে ধোয়া
মুরগির মাংস রান্নার পূর্বে ধোয়ার প্রয়োজন নেই (উচিতও না)। মুরগির কাঁচা মাংস ধোয়া হলে পানির ছিটার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া আপনার শরীরের সংস্পর্শে আসতে পারে এবং আশপাশের সারফেসে লেগে থাকতে পারে।

যা করবেন: কাঁচা মুরগির মাংস ধোয়া পরিহার করুন এবং এ অবস্থায় ফ্রাইং প্যান বা রান্নার ডেকচিতে পাঠান!

* ভালোভাবে ম্যারিনেট না করা
ফ্লেভারে সমৃদ্ধ ম্যারিনেডের মুরগির মাংস খেতে খুব সুস্বাদু। প্রকৃতপক্ষে, এটি মাংস নরম করার অন্যতম সহজ উপায়। কিন্তু ম্যারিনেট করতে মুরগির মাংস কাউন্টারে রেখে দেওয়া মারাত্মক হতে পারে, কারণ এটি উষ্ণ করার সময় ব্যাকটেরিয়া ভালোভাবে বিকশিত হতে পারে। কাঁচা মাংসের সংস্পর্শে আসার পর ম্যারিনেড কখনো পুনরায় ব্যবহার করবেন না।

যা করবেন: প্লাস্টিক ব্যাগে (অথবা অন্য কোনো বদ্ধ পাত্র) মুরগির মাংস ম্যারিনেট করুন। ম্যারিনেট শেষে পাত্রের তরল ফেলে দিন।

* যন্ত্রপাতি পরিষ্কার না করে পুনরায় ব্যবহার করা
অনেকেই কাঁচা মুরগির মাংসে ব্যবহার করা যন্ত্রপাতি সম্পর্কে খুব একটা সচেতন নন, যেমন- যে দা দিয়ে মুরগির মাংস কাটা হয়েছিল একটু পর তা ভালোভাবে পরিষ্কার না করেই শাকসবজি বা ফল কাটা। মুরগির কাঁচা মাংসে ব্যবহৃত দা, ছুরি বা বটি ভালোভাবে পরিষ্কার না করেই অন্য খাবারে ব্যবহার করলে স্যালমোনেলা ইনফেকশনের ঝুঁকি থাকে।

যা করবেন: কাঁচা মুরগির মাংসের সংস্পর্শে আসা যন্ত্রপাতি ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

* অন্যান্য খাবারের সংস্পর্শে রাখা
মুরগির কাঁচা মাংসকে অন্য খাবারের সঙ্গে রাখলে অথবা এইমাত্র যেখানে কাঁচা মাংস রেখেছেন তা ভালোভাবে পরিষ্কার না করেই একটু পর সেখানে অন্য খাবার রাখলে আপনার খাবার দূষিত হতে পারে।

যা করবেন: মুরগির কাঁচা মাংসকে অন্য খাবারের সংস্পর্শে রাখবেন না।

* হাত পরিষ্কার করতে ভুলে যাওয়া
কাঁচা মুরগির মাংস স্পর্শ করে হাত ভালোভাবে ওয়াশ না করলে আপনি যা স্পর্শ করবেন তা দূষিত হতে পারে। আপনার হাত থেকে ড্রয়ারের নব, কাউন্টারটপ, সিজনিং বোতল এবং অন্যান্য জিনিসে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া লেগে থাকতে পারে।

যা করবেন: কাঁচা মুরগির মাংস স্পর্শ করে অন্যকোনো সারফেস স্পর্শ না করার ব্যাপারে অতিরিক্ত সচেতন থাকুন। যদি তা করেন, পরে ওই সারফেস ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন বা মুছে ফেলুন। এক হাতেই মুরগির মাংস হ্যান্ডেলিং করার চেষ্টা করুন, ফলে অন্য হাত দিয়ে লবণের পাত্র বা পানির ট্যাপ ধরতে পারবেন।

* স্পঞ্জ মাসের পর মাস ব্যবহার করা
আপনি কাঁচা মুরগির মাংসের সংস্পর্শে আসা যন্ত্রপাতি বা জিনিস ধোয়া বা পরিষ্কার করার ব্যাপারে সচেতন থাকেন, কিন্তু এসব জিনিস যে স্পঞ্জের সাহায্যে পরিষ্কার করেন তা হয়তো ভালোভাবে পরিষ্কার নাও করতে পারেন। স্পঞ্জ বা অন্যান্য পরিষ্কারক ভালোভাবে ধোয়া না হলে এটি মারাত্মক প্যাথোজেন ও ব্যাকটেরিয়ার আবাসস্থল হতে পারে।

যা করবেন: প্রতিদিন আপনার স্পঞ্জ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন এবং ডিশ টাওয়েল নিয়মিত ধুয়ে ফেলুন। দুই/তিন সপ্তাহ পরপর স্পঞ্জ বা ক্লিনিং ক্লথ পরিবর্তন করুন।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

x

Check Also

ফুড পয়জনিং হলে যা করবেন

দূষিত খাবার খেলে অথবা খাবারকে ভালোভাবে রান্না না করলে যেসব পরিণতিতে ভুগতে হয় তার অন্যতম হলো ফুড পয়জনিং। অধিকাংশ ফুড পয়জনিংয়ের ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিস হয়ে থাকে। গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিসের মানে হলো পাকস্থলি ও অন্ত্রের প্রদাহ, যা বমি ও ...

গ্যাসের সমস্যা দূর করে এই ফল

পেঁপে পাকা খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি বিভিন্ন রেসিপিতেও কাঁচা পেঁপের বেশ কদর রয়েছে। কাঁচা পেঁপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন। বিভিন্ন রকম অসুখ সারাতে কাঁচা পেঁপে খুবই উপকারী। পেটের নানা রোগবালাই দূরীকরণে কাঁচা পেঁপে খুবই কার্যকরী। ...

পুরুষের যৌন ক্ষমতা কমায় করোনাভাইরাস: গবেষণা

করোনাভাইরাস পুরুষের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমাতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে। তুরস্কের মেরসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, কোভিড-১৯ রোগ পুরুষের টেস্টোস্টেরন লেভেল হ্রাস করে। টেস্টোস্টেরনকে অ্যান্ড্রোজেন বা পুরুষ হরমোন বলা হয়। এই হরমোন কমে ...

শিরোনামঃ