পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > জীবনযাপন > চল্লিশের পর চোখের যত্নে করণীয়

চল্লিশের পর চোখের যত্নে করণীয়

প্রতিদিনের সব কাজ সুন্দর, নির্বিঘ্নে করতে দৃষ্টিশক্তি ঠিক থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে বয়স যতো বাড়ে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা ততোই বাড়ে। চল্লিশের পর স্বাভাবিক ভাবেই দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, যা চালশে হিসেবেই বিবেচিত। জানা গেছে ৪৫ বছর পার হওয়া বয়সিদের মাঝে প্রতি ৬ জনের একজন চোখের নানা জটিলতায় ভোগেন, যা দৃষ্টিশক্তির জন্য খুব ক্ষতিকরও হয়ে উঠতে পারে। আপনার বয়স যদি চল্লিশ পার হয়ে থাকে, তাহলে দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখার জন্য এখন থেকেই কিছু উপায় অবলম্বন করতে হবে-

চোখ পরীক্ষা : দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখার গুরুত্বপূর্ণ এক উপায় হলো নিয়মিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে চোখ পরীক্ষা করানো। আপনার যদি ডায়াবেটিস সমস্যা থাকে, উচ্চ রক্তচাপ থাকে বা পারিবারিকভাবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা চোখের সমস্যার ইতিহাস থাকে, তাহলে দৃষ্টিশক্তির ঝুঁকিতে আছেন আপনি। এক্ষেত্রে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো উচিত। প্রতি দুই বছরে একবার চোখ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা।

* পুষ্টি ও দৃষ্টিশক্তির সম্পর্ক : গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক পুষ্টি নারী-পুরুষ উভয়ের দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখার ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পুষ্টিকর খাবার বেছে নেয়ার সময় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার, ভিটামিন এ ও সি, সবুজ শাকসবজি, মাছ এসব বেছে নিন। ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ মাছ দৃষ্টিশক্তির জন্য খুব উপকারি। আর কম অ্যান্টিঅক্সিডেন্টপূর্ণ খাবার খাওয়া, অ্যালকোহল ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করে।

ব্যায়াম : শরীরের জন্য ব্যায়াম খুব জরুরি। ব্যায়াম চোখেরও উপকার করে। ব্যায়াম করার ফলে চোখে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে, চোখের টক্সিন দূর হয়।

পর্যাপ্ত ঘুম : রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হলে আপনার শরীর-মন দুটোই সতেজ থাকবে, কর্মক্ষেত্রে ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন। এমনকি পর্যাপ্ত ঘুম আপনার চোখের জন্যও খুব উপকারি। ডাক্তাররা বলেন, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।

সানগ্লাস : প্রচন্ড গরমে বাইরে যেহেতু বের হতে হয়, তাই এ সময় আপনার চোখকে প্রখর রোদ থেকে রক্ষা করা জরুরি। এক্ষেত্রে ক্ষতিকর আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি আটকাতে পারে, এমন সানগ্লাস বেছে নিতে হবে। সম্ভব হলে ক্ষতিকর রশ্মি ঠেকাতে মাথায় হ্যাটও পরতে পারেন।

ধূমপান নয় : ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তা তো জেনেই আসছি আমরা। ধূমপান কিন্তু চোখের জন্যেও ক্ষতিকর। বয়স বাড়ার সঙ্গে যে দৃষ্টিশক্তিহীনতা সৃষ্টি হয়, তার জন্য ধূমপানকে দায়ী করা হয়।

কম্পিউটার ও ডিভাইস ব্যবহার : প্রতিদিনই বাসায় অথবা অফিসে কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করতে হয় আমাদের। আর এতে করে চোখের খুব ক্ষতি হয়ে যায় এক সময়। কম্পিউটার ও ডিজিটাল ডিভাইসের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে লুটেইন ও জিয়াজেনথিন নামের পুষ্টিকর উপাদান চোখকে রক্ষা করে। এই পুষ্টি উপাদান পেতে হলে নিয়মিত পালং শাক বা সবুজ শাকসবজি খেতে হবে।

চোখের সুরক্ষায় কিছু টিপস
বয়স চল্লিশ পেরোলেও প্রতিদিন কিছু টিপস মেনে চললে দৃষ্টিশক্তি অনেকটাই ঠিক থাকবে আপনার-

* কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে ২০-২৪ ইঞ্চি দূরে বসুন সব সময়।

* কম্পিউটার স্ক্রিন আপনার আই লেভেল থেকে একটু নিচে রাখুন।

* কম্পিউটারের ব্রাইটনেস অ্যাডজাস্ট করে রাখুন, যাতে তা চোখের উপর চাপ সৃষ্টি করতে না পারে।

* চোখ পিট পিট করুন সব সময়।

* প্রতি ২০ মিনিট কম্পিউটারে কাজ করার পর দূরের কোনো লক্ষ্যবস্তুর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকুন।

* দৃষ্টিশক্তির অস্বস্তি দূর করতে ডাক্তারের পরামর্শে আই ড্রপ ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্র: বোশ ডটকম

x

Check Also

চোখের ছানি প্রতিরোধে ঘরোয়া উপায়

মাইনুল হাসান: চোখে ছানি পড়া খুব মারাত্মক এক রোগ। এতে দৃষ্টিশক্তি ঘোলা হয়ে এক সময় মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে চোখের ছানি দূর করা যায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। তবে ঠিক সময়ে ছানি পড়া প্রতিরোধ করা গেলে ...

শুধু হাততালি দিলে যেসব রোগ ভালো হয়

দৈনন্দিন জীবনে প্রায়ই আমরা যখন উৎসাহব্যঞ্জক কোনো কিছু শুনি তখন হাততালি দেই। এটা অতি সাধারণ ব্যাপার। আপনি জানলে অবাক হবেন প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিট হাততালি দিলে আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম আগের চেয়ে সক্রিয় ও সচল ...

চা এর অজানা কথা

চা এখন আমাদের প্রতিদিনের রুটিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানে চা ছাড়া আমাদের একটি দিনও যেন চলে না। একেক জন একের রকম চা পান করতে পছন্দ করেন। অনেক ধরনের চা বাজারে পাওয়া যায়। আর এই চা সম্পর্কে ...

শিরোনামঃ