পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > জীবনযাপন > মা দিবসের ঐতিহ্য যে দেশে যেমন

মা দিবসের ঐতিহ্য যে দেশে যেমন

মা শব্দটি অতি ছোট হলেও অতি মধুর। আমাদের জীবনে মায়ের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। মা সহ্যাতীত কষ্ট সহ্য করে আমাদেরকে এ সুন্দর পৃথিবীর আলো দেখান। সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা অফুরন্ত ও বৈষম্যহীন। সন্তানের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে থাকেন মা। সন্তানেরও লক্ষ্য রাখা উচিত মা যেন কোনো রকম কষ্ট না পায়- এটা সন্তানের অপরিহার্য দায়িত্ব।

মে মাসের দ্বিতীয় রোববার অর্থাৎ আগামীকাল ১২ মে মায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে সারা বিশ্বে পালন করা হবে ‘মাদার্স ডে’ বা ‘মা দিবস’। মা দিবসের মানে এটা নয় যে, শুধুমাত্র এই একটা দিনেই মাকে উপড়ে পড়া ভালোবাসা দেব। প্রকৃতপক্ষে আদর্শ সন্তান সবসময় মাকে ভালোবেসে সর্বোচ্চ সেবাযত্ন করতে তৎপর থাকেন। মা দিবস উদযাপনের মূল লক্ষ্য হলো মায়ের প্রতি সন্তানের বিশেষ ভালোবাসা প্রদর্শন, এটি লোক দেখানো হওয়া উচিত নয়, এ ভালোবাসা হৃদয়ের গভীর থেকে আসা উচিত, অন্তরের গভীর থেকে তখনই গভীর ভালোবাসার বিচ্ছুরণ ঘটবে যদি আপনি প্রতিদিন মায়ের সেবাযত্ন করেন। মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে অথবা সারাবছর মায়ের মনকে কষ্ট রেখে মা দিবসে চাকচিক্যময় উদযাপনের কোনো মানে হয় না।

বিশ্বজুড়ে মা দিবসে ফুল ও কার্ড প্রদান একটি সর্বাধিক সাধারণ রীতি হলেও দেশে দেশে এ দিবস উদযাপনের ঐতিহ্যে ভিন্নতা রয়েছে। এখানে কিছু দেশে মা দিবস উদযাপনের ঐতিহ্য তুলে ধরা হলো।

* নেপাল: পবিত্র পুকুরে হাঁটা হয়
মা দিবস নেপালে মাথা তীর্থা অংসি নামে পরিচিত। যেসব নেপালীর মা ইহলোক ত্যাগ করেছেন তারা এ দিবসে মাকে স্মরণার্থে একটি পবিত্র উদযাপনে একত্রিত হন। প্রতিবছর এ দিবসে কাঠমান্ডুর একটি বড় গ্রামে বিখ্যাত পুকুর মাতাত্রিথাতে হাঁটার জন্য প্রচুর লোকের সমাবেশ ঘটে। তারা বিশ্বাস করেন যে এ কাজটি তাদের মৃত হিন্দু মায়েদের আত্মাকে শান্তিতে রাখবে।

* মেক্সিকো: মায়েদের উদ্দেশ্যে গান গাওয়া হয়
মেক্সিকোতে মায়ের উদ্দেশ্যে গান গাওয়া হলো ডিয়া ডি লাস মাদরিস বা মা দিবসের প্রচলিত ঐতিহ্য। এ দিবসে প্রায়সময় মেক্সিকোর অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা লাস মানানিতাস (জাগো প্রিয় জাগো, দেখ দিনের সূচনা হয়েছে, ছোট ছোট পাখিগুলো গান করছে, চাঁদটাও অস্ত গেছে) এবং আমর ডি মাদরি’র (একজন মায়ের ভালোবাসা) মতো জনপ্রিয় গান গাইতে মারিয়াচি ব্যান্ডে (মেক্সিকোর একটি শিল্পীগোষ্ঠী) যোগ দেয়। এসব গান গাওয়া হয় মায়ের ঘরের বাইরে। এছাড়া মারিয়াচিসরা রেস্টুরেন্ট বা পার্টিতেও মায়েদের উদ্দেশ্য গান গেয়ে থাকেন। স্মিথসোনিয়ান’স সেন্টার ফর ফোকলাইফ অ্যান্ড কালচারাল হেরিটেজের পরিচালক এবং মারিয়াচি ব্যান্ডের সদস্য ড্যান শিহি এনপিআর ডট অর্গকে বলেন, ‘কিছু মেক্সিকান-আমেরিকান পরিবার মা দিবসের এ ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছেন।’

* যুক্তরাজ্য: মায়েদেরকে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন পরিবেশন করা হয়
যুক্তরাজ্যের মা দিবসটি মাদারিং সানডে নামে পরিচিত। সেখানে এ দিবসটি পালিত হয় লেন্টের (খ্রিস্টানদের ৪০ দিনের পর্ব) চতুর্থ রোববারে। মাদারিং সানডে মধ্যযুগের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে- কিছু ব্রিটিশ পরিবার লেন্টেন ফাস্ট বা উপবাসের শেষে মায়েদেরকে সিমনেল কেক পরিবেশন করে। ফুড হিস্টিরিয়ান এবং ম্যানচেস্টারের শেফ নিল বাটারি তার ‘ব্রিটিশ ফুড: এ হিস্ট্রি’ নামক ব্লগে লিখেন, ‘এ ঘন মিষ্টান্ন তৈরি করা হয় ফল ও ময়দা দিয়ে এবং এর ওপরে থাকে মারজিপান (মারজিপানের যাত্রা শুরু হয়েছিল ব্রেড হিসেবে)। এ খাবারের বিশেষত্ব হলো, এটি উৎকৃষ্টমানের ময়দা দিয়ে তৈরি করা হতো।’ এর দ্বারা এটা বোঝানো হয় যে মায়েরা সবচেয়ে ভালোটাই ডিজার্ভ করে।

* ইসরায়েল: সব ধরনের পরিবারকে সম্মান জানানো হয়
১৯৮০ সালে ইসরায়েলে মা দিবসকে পরিবার দিবসে পরিবর্তন করা হয়। কেন? এর উদ্দেশ্য হলো সেদেশের সকল ধরনের নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি বা একক পরিবারকে (কেবলমাত্র পিতামাতা ও সন্তানদের নিয়ে গড়ে ওঠা পরিবার) সম্মান জানানো। সকল সমন্বয়কে ভালোবাসাসহ শুভেচ্ছা জানানো হয়: দুই মায়ের সন্তান অথবা দুই বাবার সন্তান অথবা একই পিতামাতার সন্তান- সকলেই এ উদযাপনের অংশ।

* পেরু: প্রয়াত মায়েদেরকে স্মরণ করা হয়
পেরুভিয়ান উদযাপনের একটি অংশ হলো কার্ড, গিফট ও ফুল- যা বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের ঐতিহ্য। কিন্তু পেরুভিয়ানরা তাদের প্রয়াত মায়েদেরকে স্মরণের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। পরিবারগুলো মায়েদের কবরে তাজা ফুল অর্পণ করতে সমাধিস্থলে একত্রিত হয় এবং তাদের সম্মানার্থে উৎসবের পানীয় ও খাবার শেয়ার করেন।

* থাইল্যান্ড: মায়েদেরকে ক্যাম্পাসে সম্মান দেখানো হয়
থাইল্যান্ডের বিদ্যালয়গুলোতে মা দিবস হলো একটি বিশেষ উদযাপন। এ দেশের মায়েরা ছেলেমেয়েদের ক্যাম্পাসে আসেন এবং ছেলেমেয়েরা তাদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে থাকে। এ দিবসের একটি হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত হলো, মায়েদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ছেলেমেয়েরা মায়েদের পায়ের কাছে নতজানু হয়ে বসে পড়ে।

* ফ্রান্স: মায়েদের প্রতি কবিতা আবৃত্তি করা হয়
মা দিবসে ফ্রান্সের অনেক শিক্ষক তাদের ছাত্রদের মায়েদের প্রতি কবিতা আবৃত্তি করানোর জন্য কবিতা আত্মস্থ করতে সাহায্য করেন। এমন একটি কবিতা হলো ‘আই উইশ ইউ…’, কবিতাটি লিখেছেন ফ্রেঞ্চ কবি পিয়েরে গামারা। এ কবিতার প্রথম স্তবক বাংলা করলে যা দাঁড়ায়- আমি কামনা করি/আপনার দিনটা/ভেলভেটের মতো কোমল হোক/রঙধনুর মতো বর্ণিল হোক/লিলি ফুলের মতো সুবাসিত হোক/পেরিউইঙ্কেলের মতো চিরসবুজ ও সুশোভিত হোক/আপনার দিনটা/ভরে ওঠুক পাতায় পাতায়/ভরে ওঠুক শাখায় শাখায়/এভাবে আসুক আরেকটা দিন/আসুক অন্য দিনগুলোও এভাবে।

* সর্বজনীন ঐতিহ্য: ফুল
মা দিবসে বিশ্বের সবচেয়ে প্রচলিত প্রথাগুলোর একটি হলো ফুল প্রদান। কিন্তু দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন ফুল প্রাধান্য পেয়ে থাকে। এ দিবসে থাইল্যান্ডে জনপ্রিয় হলো জেসমিন বা জুঁই ফুল- এটি হলো বিশুদ্ধ ও নিঃশর্ত ভালোবাসার প্রতীক। ফ্রান্সে বিপুল জনপ্রিয় হলো লিলি- এটি নবজন্ম বা প্রাণবন্ততার প্রতীক। জাপানিরা মায়েদেরকে কার্নেশন ফুল উপহার দিয়ে থাকে, যা সন্তানের প্রতি মায়ের অদম্য ভালোবাসাকে হাইলাইট করে। যুক্তরাষ্ট্রেও মা দিবসের জনপ্রিয় ঐতিহ্য হলো কার্নেশন। আমেরিকান মা দিবসের প্রতিষ্ঠাতা আন্না জারভিস কার্নেশনকে এ দিবসের অফিসিয়াল ফুল হিসেবে পছন্দ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘কার্নেশন তার পাপড়িকে ফেলে দেয় না, পাপড়িগুলো মারা গেলেও কার্নেশন হার্টে ধরে রাখে। আমাদের মায়েরাও তাদের সন্তানকে এভাবে বুকে আগলে রাখে, মায়ের ভালোবাসা কখনও শেষ হয় না।’

x

Check Also

চোখের ছানি প্রতিরোধে ঘরোয়া উপায়

মাইনুল হাসান: চোখে ছানি পড়া খুব মারাত্মক এক রোগ। এতে দৃষ্টিশক্তি ঘোলা হয়ে এক সময় মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে চোখের ছানি দূর করা যায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। তবে ঠিক সময়ে ছানি পড়া প্রতিরোধ করা গেলে ...

শুধু হাততালি দিলে যেসব রোগ ভালো হয়

দৈনন্দিন জীবনে প্রায়ই আমরা যখন উৎসাহব্যঞ্জক কোনো কিছু শুনি তখন হাততালি দেই। এটা অতি সাধারণ ব্যাপার। আপনি জানলে অবাক হবেন প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিট হাততালি দিলে আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম আগের চেয়ে সক্রিয় ও সচল ...

চা এর অজানা কথা

চা এখন আমাদের প্রতিদিনের রুটিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানে চা ছাড়া আমাদের একটি দিনও যেন চলে না। একেক জন একের রকম চা পান করতে পছন্দ করেন। অনেক ধরনের চা বাজারে পাওয়া যায়। আর এই চা সম্পর্কে ...

শিরোনামঃ