পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > জীবনযাপন > ইন্টারভিউতে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

ইন্টারভিউতে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

বর্তমানে চাকরি বাজারে অসংখ্য প্রার্থী। বেশিরভাগই প্রতিভাবান, যোগ্য। আর তাই এখন চাকরির ইন্টারভিউতে প্রার্থীরা মানসিক চাপে ভোগেন। ইন্টারভিউর কথা ভেবে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন প্রার্থীরা। কীভাবে ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে, ইন্টারভিউয়ের সময় কি পড়তে হবে, কিভাবে ইন্টারভিউ মোকাবেলা করতে হবে, এসব চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন প্রায় সব প্রার্থী। তবে প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন ইন্টারভিউয়ের সময়। নিয়োগদাতাদের সামনে কথা বলতে গিয়ে অনেকেই আতঙ্কে ঠান্ডা হয়ে যান। কথা জড়িয়ে যায়, প্রচুর ঘেমে যান এবং চিন্তা করার শক্তিও হারিয়ে ফেলেন কেউ কেউ। এরকম পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে অর্থাৎ ইন্টারভিউয়ের নার্ভাসনেস কাটিয়ে উঠতে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে আপনাকে।

* পূর্ব সতর্কতা : মনে রাখবেন, সময় জ্ঞান খুব গুরুত্বপূর্ণ। বড় কোনো ইন্টারভিউয়ের আগে অযথা কোনো ধরনের মানসিক চাপে ভুগবেন না। আর ইন্টারভিউ শুরু হওয়ার অন্তত ১০ মিনিট আগে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাবেন। বেশি আগে পৌঁছুলে আপনাকে হয়তো বসে থাকতে হবে, অপেক্ষা করতে হবে বেশি। এতে আপনার দুশ্চিন্তা, নার্ভাসনেস বেড়ে যেতে পারে। আর বেশি দেরি করে পৌঁছুলে হয়তো উর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ে ইন্টারভিউ কক্ষে যেতে হবে আপনাকে। এতে কথা বলার, চিন্তা করার সময়টুকু আপনি পাবেন না। প্রশ্নকর্তা আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা করবেন। দশ মিনিট বেশি সময় না আবার খুব কম সময়ও না। ইন্টারভিউয়ের আগে এ সময়ে আপনি পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন।

* সুন্দর ইন্টারভিউয়ের কল্পনা করুন : স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ার ক্ষমতা আপনার আছে। আর তাই ইন্টারভিউটা খুব ভালো হবে সে কল্পনা করুন। মাথা ঠান্ডা রাখুন, নিজেকে স্থির ও নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ নিজেকে মনে মনে বলুন, ‘আমি এই ইন্টারভিউতে জয়ী হবোই।’ কল্পনা করুন আর শরীর মনকে শিথিল করে চাপমুক্ত থাকুন। ইন্টারভিউয়ের কয়েকদিন আগে থেকে নির্দিষ্ট সময়ে চোখ বন্ধ করে এ ধরনের ভিজুয়াইজেশন বা কল্পনা করতে পারেন আপনি। একই ভাবে ইন্টারভিউয়ের কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক মিনিট আগেও এ ধরনের কল্পনা করতে পারেন। চোখ বন্ধ করে ধীরে ধীরে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে কল্পনা করুন আপনি ইন্টারভিউয়ের রুমে বসে আছেন। একে একে প্রশ্নকর্তাদের কঠিন সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন আপনি হাসি মুখে। নিয়মিত এ ধরনের চর্চা করে গেলে ভালো ফল পাবেন।

* রিলাক্স থাকুন : একজন রিলাক্স বা ভারমুক্ত চাকরিপ্রার্থীকে আত্মবিশ্বাসী বলে ধরে নেন নিয়োগদাতারা। তাই প্রশ্নকর্তাদের বুঝান যে আপনি শান্ত, স্থির ও আত্মনিয়ন্ত্রক। এতে করে প্রশ্নকর্তারা সংশ্লিষ্ট পদের জন্য আপনাকে যোগ্য ভেবে নিতে পারেন। ইন্টারভিউয়ের সময় রিলাক্স থাকতে কয়েকটি টিপস:
– ধীরে ধীরে গভীর ভাবে শ্বাস প্রশ্বাস নিন। এতে করে মনের উপর থেকে চাপ কমবে।

– প্রশ্নকর্তার সামনে সোজা হয়ে বসুন। আর এ সময় আপনার পা/বাহু ক্রস করবেন না।

– ধীরে ধীরে কথা বলুন, শ্বাস নিতে কিছুক্ষণ পরপর থামুন।

– হাত বা চোয়াল শক্ত করে রাখবেন না।

– মিষ্টি করে হাসুন। এতে পরিবেশ শিথিল হবে, প্রশ্নকর্তাও তখন হেসে কথা বলবেন আপনার সাথে।

* ঘাবড়াবেন না : সব ইন্টারভিউতেই এমন এক বা একাধিক পরিস্থিতি আসে যা আপনার জন্য অপ্রত্যাশিত। এতে বিব্রতকর এক নীরবতায় হয়তো পড়তে পারেন আপনি। তখন কথা বলার সময় হাতড়ে কোনো শব্দ খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হয়। কঠিন বা অজানা কোনো প্রশ্নের সম্মুখীন হলে এমন অবস্থা তৈরি হয়। এতে ঘাবড়াবেন না। তখনই আপনার মাথা ঠান্ডা রাখার দক্ষতা দেখানোর সময়। ভয়ের কারণে একের পর এক ভুল নিয়ন্ত্রণ করার চেয়ে ভয়টা শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা সহজ। যদি মনে হয় ভয়টা সংক্রমিত হচ্ছে, ফোকাস করতে পারছেন না, তাহলে ১০ সেকেন্ডের জন্য একটু থামুন। দম নিন। এতে করে ফোকাস করা সহজ হবে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন আপনি। প্রশ্নকর্তা হয়তো বুঝতেই পারবেন না বিষয়টা।

x

Check Also

অফিসে কাজের আগ্রহ বাড়াবেন যেভাবে

প্রায় সময় অফিসে গেলে হয়তো কর্মস্পৃহা হারিয়ে ফেলেন আপনি। এমনকি সকালে বিছানা থেকে উঠে অফিসে যাওয়ার কথা মনে পড়লে হয়তো মন খারাপ হয়ে যায় আপনার। অনুপ্রেরণার অভাবে কর্মজীবনে অনেকের ক্ষেত্রেই এমনটা হতে পারে। কিছু কৌশল ...

মশা মারার কয়েল ক্রিম ওষুধে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

মশা থেকে বাঁচতে আমরা কত কিছু করছি। কিন্তু মশা যেন কমছেই না। সম্প্রতি ডেঙ্গুজ্বর দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। স্বাভাবিকভাবে ডেঙ্গু আতঙ্কে ভুগছেন অনেকে। মশারি টানিয়েও যেন স্বস্তির ঘুম আসছে না। মশার অত্যাচার থেকে রেহাই ...

স্বামী স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত?

শরীর কাঠামো বা ফিগারেরে রয়েছে গোল্ডেন অনুপাত।এ কথাটি শুধু শরীরের ক্ষেত্রেই নয়, বরং বিয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ও ভালোবাসা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভর করে দু`জনের উচ্চতা, বয়স ও বেতনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। তবে যারা ...

শিরোনামঃ