পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > আমাদের রাজশাহী > জমে উঠছে রাজশাহীর আমের বাজার

জমে উঠছে রাজশাহীর আমের বাজার

শুক্রবার সকালে হাটে গিয়ে দেখা গেল, বাজারে উঠেছে নানা জাতের আম। খোলা আকাশের নিচে ভ্যানের ওপর সাজিয়ে আম বিক্রি করছেন কয়েকশ’ ব্যবসায়ী।

সপ্তাহের সাত দিনই এখন ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখরিত বাজারটি। রোজার মধ্যেও বিকিকিনিতে ব্যস্ত সবাই। হিমসাগর, ক্ষিরসাপাত ও গোপালভোগসহ নানা জাতের আম এই বাজার থেকেই রওনা দিচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বানেশ্বর বাজারের আশপাশে রয়েছে অন্তত ৫০টি আমের আড়ৎ। বেশ কয়েকটি আড়ৎ ঘুরে দেখা গেল, সবগুলোই ভরে উঠেছে গায়ে আঠা লেগে থাকা টাটকা আমে।

শফিকুল ইসলাম (৫০) নামে এক আড়তদার জানান, এখন আড়তে যেসব আম আছে, তার সবই গাছপাকা। দূর-দূরান্তে পাঠানোর জন্য একটু শক্ত থাকতেই গাছ থেকে নামানো হয়েছে। এবার ঝড়ে আমের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার কারণে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আম। তবে উৎপাদনে কমতি নেই বলেও জানান তিনি।

বানেশ্বর হাটের আম ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন (৪৩) বলেন, রমজানের কারণে দেশের সব জায়গায় এখন আমের ব্যাপক চাহিদা। তাই হাটে তোলার সঙ্গে সঙ্গেই আম শেষ হয়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা এখানে এসে আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। রাজশাহীর অনেক মানুষও আম কিনে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে পাঠাচ্ছেন।

এদিকে হাটের একপাশে জমে উঠেছে আম পাঠানো ঝুঁড়ির ব্যবসা। কেউ কেউ শুরু করেছেন খড় এবং চিকন দড়ির ব্যবসা।

জোহর আলী (৪৬) নামে এক ব্যবসায়ী জানান, ক্রেতার আম কেনা হলে তারা ঝুঁড়িতে ভরে সেলাইও করে দিচ্ছেন। ঝুঁড়ির দাম ধরা হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। সেলাইসহ সব মিলিয়ে নিচ্ছেন ৫০ টাকা।

বানেশ্বর হাটের মতো রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান ও সাহেববাজারসহ আমের অন্যান্য বাজারগুলোও জমজমাট হয়ে উঠেছে। এবার গাছভর্তি মুকুল স্বপ্ন দেখিয়েছিল রাজশাহীর চাষিদের। ব্যাপক ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে কিছু সময় তারা হতাশও হয়ে পড়েছিলেন। তবে এখন আশানুরুপ ফলন পাওয়া যাচ্ছে বলেই জানিয়েছেন চাষিরা। তাছাড়া আমের দামও পাওয়া যাচ্ছে ভালো। এর ফলে আমে এবারও লাভের আশা করছেন চাষিরা।

আম ব্যবসায়ীরা জানান, গোপালভোগ এক হাজার ৯০০ টাকা, ক্ষিরসাপাত এক হাজার ৮০০, লখনা এক হাজার ৩০০, গুটি এক হাজার, হিমসাগর দুই হাজার এবং রাণীভোগ এক হাজার ৭৫০ টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আর অন্য কোনো জাতের আম এখনও ওঠেনি। তাই আমের এ দাম আরো অন্তত সপ্তাহখানেক স্থায়ী থাকবে বলে জানান তারা। এ ধরনের দাম পেলে চাষিরা লাভবান হবেন বলেও ব্যবসায়ীরা জানান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালী জানান, জেলায় আমের বাগান রয়েছে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে। এবার আম এসেছে এক লাখ ২৬ হাজার ৪৮০ গাছে। এসব গাছ থেকে দুই লাখ মেট্রিক টনের বেশি আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল এক লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন।

এবার কৃষি বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও আমচাষিদের সমন্বয়ে আম নামানোর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। ১৫ মে থেকে গোপালভোগ ও গুটি, ২৫ মে থেকে হিমসাগর ও লখনা জাতের আম নামানো শুরু হয়েছে। আগামী ৮ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১০ জুন থেকে ফজলি, ২০ জুন থেকে আম্রপালি ও ১৫ জুলাই থেকে আশ্বিনা আম নামাতে পারবেন চাষিরা।

গত বছর থেকে রাজশাহীর আম বিদেশেও রপ্তানি শুরু হয়েছে। ওই বছর মাত্র ৩০ মেট্রিক টন আম রপ্তানি করা হয়। তবে এবার চীন ও ইউরোপে ১০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির টার্গেট নিয়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। উন্নতমানের আম রপ্তানি করতে বেশকিছু বাগানে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি।

x

Check Also

রাজশাহীতে শুরু হয়েছে গুটি আম পারার উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক, পুঠিয়া : বুধবার থেকে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু। রোববার জেলা প্রশাসন এই সময়সূচি নির্ধারণ করে দিয়েছে । প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী রাজশাহীতে ১৫ মে বুধবার থেকে গুটি আম পাড়া যাবে। দেশবাসীকে বিষমুক্ত ...

উন্মোচন হলো রাজশাহীর বহুমুখী উন্নয়নের দ্বার

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে রাজশাহীর বিভিন্নখাতে ব্যাপক উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও চায়নার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়না‘র মধ্যে সমঝোতা স্মারক চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। রোববার দুপুরে নগরভবন সভাকক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রাজশাহী ...

রাজশাহীতে আম নামানো যাবে যেসব তারিখে

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে আম নামানোর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, ফল গবেষক, আম চাষি ও আম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিয়ম শেষে গাছ থেকে আম নামানোর সময় নির্ধারণ করা ...

শিরোনামঃ