পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > আমাদের রাজশাহী > রাজশাহীতে অসহনীয় লোডশেডিং

রাজশাহীতে অসহনীয় লোডশেডিং

রাজশাহীতে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। গ্রামের পাশাপাশি শহরেও বেড়েছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। গত দুই সপ্তাহ ধরে অসহনীয় মাত্রায় লোডশেডিংয়ে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। শনিবার থেকে রাজশাহী মহানগরীতে এ ভোগান্তি চরমে উঠেছে। এদিকে, নগরীর বিসিক শিল্প এলাকায় কলকারখানায় উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বেকায়দায়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই অভিযোগ করছে, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিদ্যুৎ বিভাগের এক শ্রেণির মানুষ এমন অবস্থার সৃষ্টি করছে।

রাজশাহী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, উৎপাদন কম হচ্ছে, তাই লোডশেডিং বেশি। নর্থ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগর এলাকার পাঁচটি অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ৭৫ মেগাওয়াটের কিছু বেশী। এর বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৪৮ মেগাওয়াট। সন্ধ্যার দিকে এই চাহিদা আরও বেড়ে যায়। সেই অনুপাতে সরবরাহ বাড়েনি। ফলে লোড ম্যানেজমেন্ট করতে হচ্ছে।

এদিকে রাজশাহীর কাটাখালী গ্রিড থেকে জেলার পবা উপজেলার কিছু এলাকা, পুঠিয়ার বানেশ্বর এলাকা ও চারঘাট উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ৪০ মেগাওয়াট তাকলেও বিপরীতে সরবরাহ মিলছে গড়ে ২১ মেগাওয়াট।

এছাড়া রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে জেলার তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, দুর্গাপুর ও পবার কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এসব এলাকাতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। গত শনিবার রাত আটটার দিকে এই এলাকার চাহিদা ছিল ৫১ মেগাওয়াট। তার বিপরীতে পাওয়া গেছে ২৭ মেগাওয়াট। এছাড়া সোমবার দুপুরে তাদের চাহিদা ছিল ৩২ মেগাওয়াট, তার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছিল ২৫ মেগাওয়াট।

নগরীর বালিয়াপুকুর এলাকায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাবিল নাওয়াল হোসেন উৎস বলেন, পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কিছুতেই পড়া শেষ করতে পারছি না।

নগরীর কয়েরদাঁড়া এলাকার শিক্ষক রেদওয়ানুল হক অভিযোগ করেন, রীতিমতো বাজে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থায় মানুষের টিকে থাকা দুষ্কর হয়ে উঠেছে।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বিদ্যুতের এতো সদস্যা নেই। বর্তমান সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন করতেই বিদ্যুৎ বিভাগের একটি চক্র ইচ্ছে করেই এমন কাজ করছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন মানুষ।

এদিকে মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি কলকারখানায় উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। রাজশাহী নগরের বিসিক এলাকায় অবস্থিত এজি প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী আবদুল গণি বলেন, দু-তিন দিন ধরে দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের কারখানায় পণ্য উৎপাদনে যাওয়ার আগে তিন ঘণ্টা প্লাস্টিক দানায় হিট দিতে হয়। তারপর এই দানাকে কাঁচামাল হিসেবে কাজে লাগানো যায়। কিন্তু বিদ্যুৎ এক ঘণ্টা পর আসছে, এক ঘণ্টা থেকে আবার চলে যাচ্ছে। কখনো দুই ঘণ্টা থাকছে। তাঁরা বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার কোনো হিসাব পাচ্ছেন না।

রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান বলেন, মাঝখানে বিদ্যুতের কারণে দুর্ভোগ কমেছিল। তবে আবার রাজশাহীতে কয়েক দিন থেকে বাজে অবস্থা চলছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে।
বিদ্যুত বিভাগের পক্ষ থেকে জাতীয় গ্রিডে সমস্যার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে বর্তমানে বিদ্যুৎ নিয়ে খোদ কর্মকর্তারায় লুকোচুরি খেলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকে বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের সাবোটাজ হিসেবেও মনে করছেন।

x

Check Also

১৯৭১ আমার মুক্তিযুদ্ধ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন মেয়র লিটন

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল রচিত ‘১৯৭১ আমার মুক্তিযুদ্ধ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। আজ বুধবার দুপুরে নগরভবনে মেয়রের দপ্তরকক্ষে মহান মুক্তিযুদ্ধের গল্প বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ...

দেশে করোনায় আরও ৩০ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৫৬

দেশে নতুন করে ১ হাজার ৩৫৬ জনের দেহে নভেল করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ রোগের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য ...

রাজশাহী বিভাগে একদিনে বেড়েছে ৪৩ করোনা রোগী

রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় একদিনে ৪৩ জন করোনা রোগী বেড়েছে। নতুন আক্রান্ত এসব ব্যক্তিরা বৃহস্পতিবার শনাক্ত হয়েছেন। শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজশাহীর আট ...

শিরোনামঃ