পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > খেলা > আন্তর্জাতিক ক্রিকেট > আবারো স্বপ্নভঙ্গের বেদনা

আবারো স্বপ্নভঙ্গের বেদনা

বাংলাদেশকে ৭৯ রানে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শ্রীলঙ্কা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
শ্রীলঙ্কা : ৫০ ওভারে ২২১
বাংলাদেশ : ৪১.১ ওভারে ১৪২
ফল : শ্রীলঙ্কা ৭৯ রানে জয়ী।

পারল না বাংলাদেশ : মিরপুরে এর আগে তিনটি ফাইনালে হারের হতাশা সঙ্গী করেছিল বাংলাদেশ। আজ ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশের সামনে হাতছানি দিচ্ছিল নতুন স্বপ্ন। কিন্তু এবারও পারল না বাংলাদেশ। আবারো স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় নীল হলো বাংলাদেশ।

ধারাকাছেও যেতে পারল না বাংলাদেশ : লক্ষ্যটা ছিল ২২২ রানের। মিরপুরের উইকেট অনুযায়ী কিছুটা কঠিন লক্ষ্য হলেও অসম্ভব নয় মোটেই। কিন্তু বাংলাদেশ যেতে পারল না ধারেকাছেও। ৪১ ওভার ১ বলে ১৪২ রানে থেমেছে বাংলাদেশের ইনিংস। ফিল্ডিংয়ে চোট পাওয়ায় ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি সাকিব আল হাসান।

কী শুরু আর কী শেষ : বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করেছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৮ উইকেটের বড় জয়ে। এরপর শ্রীলঙ্কাকে হারায় ১৬৩ রানে। তাতে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। ফিরতি দেখায় জিম্বাবুয়েকে আবারো হারায় ৯১ রানে। তিনটি ম্যাচই জিতেছিল বোনাস পয়েন্ট নিয়ে। কিন্তু প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮২ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ হারে ১০ উইকেটে। সেই হারের ধাক্কাটা ফাইনালেও লাগল। টানা তিন জয়ের পর টানা দুই হারে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সপ্নও ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। আর দুঃস্বপ্নের মতো সিরিজ শুরু করা শ্রীলঙ্কা হলো চ্যাম্পিয়ন।

অভিষেকে মাদুশানাকার হ্যাটট্রিক : নিজের আগের ওভারে পরপর দুই বলে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। পরের ওভারের প্রথম বলে মাহমুদউল্লাহকে আউট করে অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করেছেন শেহান মাদুশানাকা। তার হ্যাটট্রিকে শেষ হয়ে গেছে ম্যাচও। বাংলাদেশের হয়ে একাই লড়েছেন মাহমুদউল্লাহ। ৯২ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৬ রান করেন তিনি।

জোড়া ধাক্কা : অভিষিক্ত শেহান মাদুশানাকার পরপর দুই বলে আউট হয়ে গেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও রুবেল হোসেন। ফুলটস বলে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন মাশরাফি (৫)। পরের বলে বোল্ড হয়েছেন রুবেল (০)। ১৪১ রানেই তখন ৮ উইকেট নেই। ২২২ রানের লক্ষ্যটা যেন শত আলোকবর্ষ দূরের পথ!

এবার রান আউট সাইফউদ্দিন : ৯০ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর মাহমুদউল্লাহ ও সাইফউদ্দিনের জুটিটা বেশ ভালোই জমে উঠেছিল। কিন্তু ৩৭ রানের জুটি ভেঙেছে রান আউট দুর্ভাগ্যে। সুরঙ্গা লাকমালের বল মিড উইকেটে খেলেছিলেন সাইফউদ্দিন। নন স্ট্রাইক প্রান্ত থেকে মাহমুদউল্লাহ ছুটে আসেন সিঙ্গেলের জন্য। তবে সাইফউদ্দিন ক্রিজে পৌঁছাতে পারেননি। বল ধরে দৌড়ে গিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন গুনারত্নে। সাইফউদ্দিন ৮ রান করে ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ৬ উইকেটে ১২৭। এর আগে রান আউট হয়েছেন ওপেনার মিথুনও।

মাহমুদউল্লাহর ফিফটিতে দলের একশ : দলের বিপদে আশার আলো হয়ে টিকে আছেন মাহমুদউল্লাহ। দলকে বলতে গেলে একাই টেনে নিচ্ছেন এই ডানহাতি। ৭০ বলে ৫ চার ও এক ছক্কায় তুলে নিয়েছেন ফিফটি। তার ফিফটিতে পূর্ণ হয়ে দলের শতরান। ৩১ ওভার ২ বলে একশ হয়েছে বাংলাদেশের। হারিয়েছে ৫ উইকেট।

ফিরলেন মিরাজও : আকিলা ধনঞ্জয়ার বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৪ বলে ৫ রান করেছেন তিনি। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৫ উইকেটে ৯০।

পারলেন না মুশফিক : আকিলা ধনঞ্জয়ার আগের ওভারেই রিভিউ নিয়ে বেঁচেছিলেন। সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলেন না মুশফিকুর রহিম। অফ স্পিনারের পরের ওভারে সুইপ করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন মুশফিক (২২)। তাতে ভাঙে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে তার ৫৮ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ৮০।

রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন মুশফিক : আকিলা ধনঞ্জয়ার বল আঘাত করে মুশফিকুর রহিমের প্যাডে। শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়দের আবেদনে এলবিডব্লিউ আউট দিয়ে দেন আম্পায়ার। মুশফিক চান রিভিউ। রিপ্লেতে দেখা যায়, অফ স্পিনারের বল পিচ করেছে লেগ স্টাম্পের বাইরে। তাতে বেঁচে যান মুশফিক। তিনি তখন ২০ রানে ব্যাট করছিলেন।

শ্রীলঙ্কার রিভিউ নষ্ট : আকিলা ধনঞ্জয়ার বলে মাহমুদউল্লাহর কট বিহাইন্ডের আবেদন করেছিলেন শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়রা। আম্পায়ার সে আবেদনে সাড়া দেননি। চান্দিমাল চান রিভিউ। টিভি রিপ্লেতে দেখায় যায়, বল ব্যাটেই লাগেনি। তাতে ইনিংসের একমাত্র রিভিউটি নষ্ট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কার।

সাব্বিরের বিদায়ে বিপদে বাংলাদেশ: ফিল্ডিংয়ে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়ায় আজ তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামতে পারেননি সাকিব আল হাসান। ইনিংসেই সম্ভবত আর ব্যাট করতে পারবেন না! তার জায়গায় তিনে নেমে সিরিজে আরেকবার ব্যর্থ সাব্বির রহমান। আরো একবার আউট হয়েছেন বাজে শটে। দুশমন্ত চামিরার শর্ট বল পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে গুনারত্নেকে ক্যাচ দিয়েছেন ২ রান করা সাব্বির। তখন ২২ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে দল।

ব্যাটিং করতে পারবেন না সাকিব: শঙ্কা সত্যি হল। সাকিবের আঙুলের চোট বড় দুঃসংবাদ দিল বাংলাদেশকে। বাঁহাতের কনিষ্ঠ আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন সাকিব। মাঠ থেকে তাকে দ্রুতই নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। হাসপাতালে তার অাঙুলে স্ক্যান করা হয়। এরপর সেলাই করা হয় চোট পাওয়া স্থানে। বিসিবির পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, সাকিবের ফাইনাল খেলার কোনো সম্ভবনা নেই। প্রথম টেস্টও মিস করবেন টেস্ট অধিনায়ক।

রান আউট মিথুন: এনামুল হক বিজয়ের জায়গায় ফাইনালে সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলেন না মোহাম্মদ মিথুন। ২৭ বলে ১০ রান করে রান আউটে কাটা পড়েছেন। সুরঙ্গা লাকমালের বল মিড অফে ঠেলেই সিঙ্গেল নিতে ছুটেছিলেন। বল ধরে সরাসরি থ্রোয়ে নন স্ট্রাইক প্রান্তের স্টাম্পের বেল ফেল দেন থিসারা পেরেরা। ৯ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ১৭।

মাথা গরম করে আউট তামিম: দুশমন্থ চামিরার আগের বলেই আউট হয়ে যেতে পারতেন তামিম ইকবাল। ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলতে গিয়ে টাইমিংয়ের গড়মিলে বোলারের হাতে ক্যাচ দিয়েছিলেন। কঠিন ক্যাচটা তালুবন্দি করতে পারেননি বোলার। বলের বলেই উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসেন। শর্ট বল পুল করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু টপ এজ হয়ে বল উঠে যায় ওপরে, মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ নেন আকিলা ধনঞ্জয়া। ১৮ বলে ৩ রান করেন তামিম। বাংলাদেশের স্কোর তখন ১ উইকেটে ১১। তিনে নেমেছেন সাব্বির রহমান।

বাংলাদেশের সতর্ক সূচনা: লক্ষ্যটা ২২২ রানের। উইকেট অনুযায়ী লক্ষ্য কিছুটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয় মোটেই। সেই লক্ষ্যে সতর্কভাবে ব্যাটিং শুরু করেছেন তামিম ইকবাল ও মোহাম্মদ মিথুন। সুরাঙ্গা লাকমাল ও দুশমন্থ চামিরাকে দেখেশুনে খেলছেন তামিম ও এনামুলের জায়গায় সুযোগ পাওয়া মিথুন। ৫ ওভার শেষে সংগ্রহ বিনা উইকেটে ১১।

সাকিবকে নিয়ে শঙ্কা কাটেনি: চোট নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া সাকিব আল হাসানের স্ক্যানের রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে তিনি ব্যাট করতে পারবেন কি না, সেটাও জানা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশের সামনে সূবর্ণ সুযোগ: শ্রীলঙ্কা যেভাবে খেলছিল তাতে একটা সময় মনে হচ্ছিল, রান তিন শর কাছে যাবে। তবে রুবেল, মুস্তাফিজদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে লঙ্কানদের ২২১ রানেই বেঁধে ফেলেছে বাংলাদেশ। ইনিংসের শেষ বলে অলআউট হয়েছে শ্রীলঙ্কা।

রুবেলের করা শেষ বলে সুরঙ্গা লাকমালকে রান আউট করেন মুশফিকুর রহিম। ১০ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার রুবেল। ২৯ রানে ২ উইকেট পেয়েছেন মুস্তাফিজ। মাশরাফি, মিরাজ ও সাইফউদ্দিন নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

রুবেলের চতুর্থ: আবারো শ্রীলঙ্কান শিবিরে আঘাত হেনেছেন রুবেল হোসেন। অভিষিক্ত শেহান মাদুশানাকাকে বোল্ড করেছেন ডানহাতি পেসার। ইনিংসে এটি রুবেলের চতুর্থ উইকেট।

মুস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার: বাঁহাতি পেসারের শর্ট লেংথ বলে কভারে ক্যাচ তুলে দেন ধনঞ্জয়া। কভারে সহজ ক্যাচ নিতে কোনো ভুল হয়নি মোহাম্মদ মিথুনের। ইনিংসে এটি মুস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার।

রুবেলের আরেকটি: ইনিংসে নিজের তৃতীয় উইকেট নিয়েছেন রুবেল হোসেন। তার ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে গেছেন দিনেশ চান্দিমাল। ৭৪ বলে ৪৫ রান করেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক। শ্রীলঙ্কার স্কোর তখন ৭ উইকেটে ২০৯।

গুনারত্নেকে ফেরালেন রুবেল: আসেলা গুনারত্নেকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন রুবেল হোসেন। রিভিউ চান গুনারত্নে। এর আগে দুইবার আম্পায়ারের দেওয়া এলবিডব্লিউয়ের সিদ্ধান্ত রিভিউ নিয়ে বদলিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। এবার আর হয়নি। ৬ রান করে ফেরেন গুনারত্নে। স্কোর তখন ৬ উইকেটে ১৮২।

চোট নিয়ে মাঠ ছাড়লেন সাকিব: মুস্তাফিজুর রহমানের বল বোলার প্রান্তে খেলেছিলেন দিনেশ চান্দিমাল। নন স্ট্রাইক প্রান্ত থেকে সিঙ্গেলের জন্য বেরিয়ে গিয়েছিলেন আসেলা গুনারত্নে। এক্সট্রা কাভার থেকে ছুটে এসে বল ধরে থ্রো করতে চেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু বল ধরতে পারেননি। উল্টো চোট পান হাতে। মাঠে নেমে আসেন ফিজিও। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাঁহাতে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন সাকিব। তবে চোট গুরুতর কি না, সেটা এখননো জানা যায়নি। বদলি ফিল্ডার হিসেবে ফিল্ডিং করছেন নাসির হোসেন।

পেরেরাকে ফেরালেন রুবেল: ওড়ার আগেই থিসারা পেরেরার ডানা ছেটে দিলেন রুবেল হোসেন। ডানহাতি পেসারের শর্ট বলে পুল করতে গিয়েছিলেন পেরেরা। বল উঠে যায় আকাশে। মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ নেন তামিম ইকবাল। ২ রান করে ফেরেন পেরেরা। ইনিংসে এটি রুবেলের প্রথম শিকার। শ্রীলঙ্কার স্কোর তখন ৫ উইকেটে ১৬৩।

থারাঙ্গাকে ফিরিয়ে মুস্তাফিজের পঞ্চাশ: আগের বলেই উইকেট পেতে পারতেন। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে উপুল থারাঙ্গাকে এলবিডব্লিউ দিয়েছিলেন আম্পায়ার। কিন্তু থারাঙ্গা রিভিউ নিলে পাল্টে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। বল স্টাম্প মিস করেছিল। তবে এক বলের বেশি অপেক্ষায় থাকতে হয়নি ‘দ্য ফিজ’কে। পরের বলেই থারাঙ্গাকে বোল্ড করে দেন বাঁহাতি এই পেসার। আর থাঙ্গাকে ফিরিয়ে ওয়ানডেতে ৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁলেন মুস্তাফিজ। বাংলাদেশের দ্রুততম বোলার হিসেবে উইকেটের ফিফটি করলেন মুস্তাফিজ। ২৭তম ম্যাচে মাইলফলক ছুঁলেন তিনি। এর আগে ৩২ ম্যাচে ৫০ উইকেট নিয়েছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। ৯৯ বলে ৫ চারে ৫৬ রান করেন থারাঙ্গা। শ্রীলঙ্কার স্কোর তখন ৪ উইকেটে ১৫৮।

থরাঙ্গার ফিফটি: রুবেল হোসেনের বলে চার মেরে ফিফটি পূর্ণ করেছেন উপুল থারাঙ্গা। ৮৭ বলে ফিফটি করতে ৫টি চার মারেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। এটি তার ক্যারিয়ারের ৩৭তম ওয়ানডে ফিফটি।

জুটি ভাঙলেন সাইফউদ্দিন: তৃতীয় উইকেট জুটিতে উপুল থারাঙ্গার সঙ্গে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে যাওয়া নিরোশান ডিকভেলাকে ফিরিয়ে প্রতিরোধ ভেঙেছেন সাইফউদ্দিন। ফিফটি থেকে ৮ রান দূরে থাকা ডিকভেলাকে ফেরালে তৃতীয় উইকেটে তাদের ৭১ রানের জুটি ভেঙে যায়। ইনিংসের ২৪ তম ওভারের পঞ্চম বলে সাইফুদ্দিনের লেগ স্টাম্পের ওপরে শর্ট বল ডিকভেলার ব্যাটে লেগে ওপড়ে উঠে যায়। আর সাব্বির রহমান ছুটে এসে সেটি লুফে নিলে ব্যক্তিগত ৪২ রানে সাজঘরে ফেরেন ডিকভেলা।

দলীয় শতরান ছাড়িয়ে: শুরুর ধাক্কা সামলে শ্রীলঙ্কাকে টানছেন উপুল থারাঙ্গা ও নিরোশান ডিকভেলা। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ইতিমধ্যেই ফিফটি ছাড়িয়ে এ জুটির রান। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ভর করে দলীয় ২৩ ওভারের সময় দলীয় শতরান ছাড়িয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। মাহমুদউল্লাহর ওভারের পঞ্চম বলে চার মেরে দলীয় শতরানের কোটা পার করে দেন লঙ্কান ব্যাটসম্যান ডিকভেলা।

রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন ডিকভেলা: ১৫তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের বল নিরোশান ডিকভেলার প্যাডে লাগতেই জোরালো আবেদন করেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। আঙুল তুলে দেন আম্পায়ারও। ডিকভেলা চান রিভিউ। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ডিকভেলার প্যাডে আঘাত করার আগে ব্যাট ছুঁয়ে গেছে। ফলে পাল্টে যায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। বেঁচে যাওয়া ডিকভেলার রান ছিল তখন ২০।

বিধ্বংসী মেন্ডিসকে ফেরালেন মাশরাফি: মেহেদী হাসানের করা আগের ওভারে তিনটি ছক্কা ও একটি চার মেরে বিধ্বংসী রুপ ধারণ করেছিলেন কুশল মেন্ডিস। পরের ওভারেই আক্রমণাত্মক এই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। পুল করতে গিয়ে মিড অনে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দিয়েছেন মেন্ডিস (৯ বলে ২৮)। শ্রীলঙ্কার স্কোর তখন ২ উইকেটে ৪২।

মিরাজের ব্যয়বহুল ওভার : আগের ওভারে দলকে সাফল্য এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু নিজের পরের ওভারে মুক্তহস্তে রান দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ! ইনিংসের পঞ্চম এই ওভার থেকে এসেছে ২৪ রান। প্রথম চার বলে তিনটি ছক্কা ও একটি চার মারেন কুশল মেন্ডিস। শেষ দুই বল থেকে আসে দুটি সিঙ্গেল।

শুরুতেই মিরাজের আঘাত: প্রাথমিক পর্বে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। মেহেদী হাসান মিরাজ সুযোগ পেয়েছেন ফাইনালে। কেন তাকে ফাইনালে নেওয়া হয়েছে, সেটা শুরুতেই দেখিয়ে দিলেন এই অফ স্পিনার। ইনিংসের তৃতীয় আর নিজের দ্বিতীয় ওভারেই বাংলাদেশকে সফলতা এনে দিয়েছেন মিরাজ। তার ফুলার লেংথ ডেলিভারি উড়িয়ে মেরেছিলেন দানুস্কা গুনাথিলাকা। লং অফ থেকে দৌড়ে এসে দারুণ ক্যাচ নেন তামিম ইকবাল। ৬ রান করে ফেরেন গুনাথিলাকা। শ্রীলঙ্কার স্কোর তখন ১ উইকেটে ৮।

টস: মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল। তার মানে আগে বোলিং করবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ দলে তিন পবির্তন: বাংলাদেশ দলে আজ তিনটি পরিবর্তন এসেছে। দলে ঢুকেছেন মোহাম্মদ মিথুন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। বাদ পড়েছেন এনামুল হক বিজয়, নাসির হোসেন ও আবুল হাসান রাজু।

বাংলাদেশ দল: মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মিথুন, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির, মিরাজ, রুবেল, মুস্তাফিজ, সাইফউদ্দিন।

শ্রীলঙ্কা দলে এক পরিবর্তন: শ্রীলঙ্কা দলে একটি পরিবর্তন। লাকশান সান্দাকানের জায়গায় দলে ঢুকেছেন শেহান মাদুশানাকা।

শ্রীলঙ্কা দল: দিনেশ চান্দিমাল, উপুল থারাঙ্গা, দানুস্কা গুনাথিলাকা, নিরোশান ডিকভেলা, আসেলা গুনারত্নে, কুশল মেন্ডিস, আকিলা ধনাঞ্জয়া, সুরাঙ্গা লাকমাল, দুশমস্থ চামিরা, থিসারা পেরেরা ও শেহান মাদুশানাকা।

এবার পারবে বাংলাদেশ: মিরপুরে এর আগে তিনটি ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। এবং তিনটিতেই হেরেছে। ২০০৯ ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কার কাছে ২ উইকেটে, ২০১২ এশিয়া কাপে পাকিস্তানের কাছে ২ রানে, আর ২০১৬ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে ৮ উইকেটে হারে বাংলাদেশ। মিরপুরে আজ আরেকটি ফাইনাল, আবারো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি। এবার পারবে বাংলাদেশ?

x

Check Also

নিষ্প্রাণ ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধহীন পরাজয়

ধীর গতির উইকেট। বল ব্যাটে আসছিল থেমে থেমে। উইকেট দেখে দুই দলেরই চাওয়া ছিল টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া। আশা পূর্ণ হয়েছিল রোহিত শর্মার। টসের পাশাপাশি ম্যাচও জিতলেন ভারতীয় অধিনায়ক। নিদাহাস ট্রফিতে জয়ে ফিরেছে ভারত। আর ...

ভারতকে উড়িয়ে শ্রীলঙ্কার শুরু

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিদাহাস ট্রফির শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার। কুশল পেরেরার ঝোড়ো ফিফটিতে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে লঙ্কানরা। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ...

ছিটকে গেলেন সাকিব, দলে ঢুকলেন লিটন

ক্রীড়া প্রতিবেদক :  শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফিতে সাকিব আল হাসানের খেলা নিয়ে ছিল শঙ্কা। সেই শঙ্কাই সত্যি হলো। বাঁ হাতের আঙুলের চোট পুরোপুরি না সারায় সাকিবের নিদাহাস ট্রফিতে খেলা হচ্ছে না। একটা-দুটো ম্যাচ না, পুরো টুর্নামেন্টেই খেলতে ...

শিরোনামঃ