পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > খেলা > আন্তর্জাতিক ক্রিকেট > নিষ্প্রাণ ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধহীন পরাজয়

নিষ্প্রাণ ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধহীন পরাজয়

ধীর গতির উইকেট। বল ব্যাটে আসছিল থেমে থেমে। উইকেট দেখে দুই দলেরই চাওয়া ছিল টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া। আশা পূর্ণ হয়েছিল রোহিত শর্মার। টসের পাশাপাশি ম্যাচও জিতলেন ভারতীয় অধিনায়ক। নিদাহাস ট্রফিতে জয়ে ফিরেছে ভারত। আর বাংলাদেশ হার দিয়ে শুরু করল ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটি।

ভারতের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে স্কোরবোর্ডে ১৩৯ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। ৮ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে টিম ইন্ডিয়া।

এমন উইকেটে শুরু থেকে প্রয়োজন ছিল বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং। কিন্তু টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই তাড়াহুড়ো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। ফলে ভালো শুরু পেলেও কোনো ব্যাটসম্যানের ইনিংস ডালাপালা মেলতে পারেনি। বাংলাদেশও পায়নি বড় সংগ্রহ। অন্যদিকে ভারতীয় বোলাররা ছিল দারুণ। শর্ট বল, স্লো বল করে ব্যাটসম্যানদের বড় শট খেলা থেকে বিরত রাখছিলেন তারা। মূলত ভেরিয়েশন থাকায় ভারতের বোলাররা ছিলেন অসাধারণ। বোলারদের অসাধারণ নৈপূণ্য ও ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীল ইনিংসে নিদাহাস ট্রফিতে প্রথম জয় পেয়েছে ভারত। হারতে থাকা বাংলাদেশের দুঃস্বপ্নের তালিকায় আজ যোগ হলো আরেকটি পালক।

দুই দলের জয়-পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে ডট বল। বাংলাদেশের ইনিংসে ডট বল ছিল ৫৫টি। আর ১৮.৪ ওভার ব্যাটিংয়ে ভারতের ইনিংসে ডট বল ৩৪টি। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কিছুদিন আগেও বলেছিলেন, টি-টোয়েন্টিতে যারা ডট বল কম খেলে তাদের রান এমনিতেই বেড়ে যায়।’ ১২০ বলের খেলায় ৫৫ ডট বলের অর্থ ইনিংসের প্রায় অর্ধেক বলেই কোনো রান পায়নি বাংলাদেশ। অতিরিক্ত খাত থেকে পাওয়া ১৫ রান বাদ দিলে তো ব্যাটসম্যানদের কোনো অর্জনই নেই।

ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন লিটন কুমার দাস। ৩০ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। ইনিংসটি সাজাতে ভাগ্যকে পাশে পেয়েছেন তিনবার। সুরেশ রায়না, ওয়াসিংটন সুন্দর তার ক্যাচ ছাড়েন। আর টপ এজে বেঁচে যান একবার। সাব্বির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন ২৬ বলে। ৩ চার ও ১ ছক্কা ছিল তার ইনিংসে। জীবন পেয়েছিলেন সাব্বিরও। ৯ রানে তার ক্যাচ ছাড়েন বিজয় শংকর। সৌম্য (১৪), তামিম (১৫), মুশফিক (১৮) সবাই শুরুটা ভালো করেছিলেন। কিন্তু কেউই টিকে থাকতে পারেননি।

বাঁহাতি পেসার জয়দেব উনদাকাট ৩৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ২ উইকেট নেন বিজয় শংকর। আর ১টি করে উইকেট পেয়েছেন শার্দুল ঠাকুর ও যজুবেন্দ্র চাহাল।

লক্ষ্য তাড়ায় ভারতের ছিল না কোনো তাড়াহুড়ো। কিন্তু বাজে বোলিংয়ে লোভ সামলাতে পারেনি তারাও। রোহিত শর্মা তাসকিনকে যেভাবে পুল করে আর স্কয়ার কাটে চার মেরেছেন তাতে মনে হয়েছে ব্যাটিং কতটা সহজ কাজ। তবে সেই আত্মবিশ্বাস ভেসে যায় মুস্তাফিজের এক স্লোয়ারে। একটু ভেতরে ঢোকানো বলে প্লেড অন হন রোহিত (১৭)। এক চার মেরে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছিলেন রিসভ পান্তও। কিন্তু রুবেলের গতির তোপে বোল্ড হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ভারতকে। জয় থেকে ৩২ রান দূরে থাকতে সুরেশ রায়নাকে ফিরিয়ে রুবেল তৃতীয় সাফল্য দিয়েছিলেন। হাফ সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া শেখর ধাওয়ানকেও (৫৫) ফিরিয়েছিলেন তাসকিন। কিন্তু তাতেও পথ হারায়নি ভারত। মনিশ পান্ডে (২৭) ও দিনেশ কার্তিক (২) জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন।

এর আগে ভারতের বিপক্ষে পাঁচ টি-টোয়েন্টি খেলে একটিও জয়ের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ। ভারতের সাফল্যপাতায় যোগ হলো আরেকটি জয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কবে ভারতকে হারাতে পারবে বাংলাদেশ? আরেকটি পরিসংখ্যান তো আরও ভয়াবহ। শেষ ১৩ টি-টোয়েন্টিতে জয় মাত্র ১টিতে। আজ কলম্বোর আর প্রেমাদাসায় আরেকটি জয়হীন রাত কাটাল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

x

Check Also

ভারতকে উড়িয়ে শ্রীলঙ্কার শুরু

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিদাহাস ট্রফির শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার। কুশল পেরেরার ঝোড়ো ফিফটিতে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে লঙ্কানরা। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ...

ছিটকে গেলেন সাকিব, দলে ঢুকলেন লিটন

ক্রীড়া প্রতিবেদক :  শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফিতে সাকিব আল হাসানের খেলা নিয়ে ছিল শঙ্কা। সেই শঙ্কাই সত্যি হলো। বাঁ হাতের আঙুলের চোট পুরোপুরি না সারায় সাকিবের নিদাহাস ট্রফিতে খেলা হচ্ছে না। একটা-দুটো ম্যাচ না, পুরো টুর্নামেন্টেই খেলতে ...

গেইলদের এ কেমন ব্যাটিং!

ক্রীড়া ডেস্ক : ভাগ্যিস প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল। নয়তো এমন লজ্জা ১৯৯৬ সালের পর আবার পেত ওয়েস্ট ইন্ডিজ! প্রস্তুতি ম্যাচ হওয়ায় ম্যাচের পরিসংখ্যান থাকবে না রেকর্ড বুকে।হারিয়ে যাবে স্কোরকার্ডও। কিন্তু ক্রিকেটপ্রেমীদের মস্তিষ্ক থেকে কিভাবে এ ম্যাচ ...

শিরোনামঃ