পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > খেলা > ‘চারজন আম্পায়ারই নিশ্চিত ছিল, দাগের ভেতরে কিছু ছিলনা’

‘চারজন আম্পায়ারই নিশ্চিত ছিল, দাগের ভেতরে কিছু ছিলনা’

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

জাতীয় দলের বিদেশ সফর কিংবা হোম সিরিজ শেষে একটা ঘটনা নিয়মিতই ঘটত। বিদেশি কোচরা বিদেশ সফর থেকে ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেশে ফিরতেন না। ছুটি নিয়ে যেতেন পরিবারের কাছে। আর হোম সিরিজ শেষে ছুটি নিয়ে দিতেন উড়াল।

নতুন কোনো অ্যাসাইনমেন্ট না হলে তাদের খোঁজও পাওয়া যেত না! এক্ষেত্রে স্টিভ রোডস বেশ ব্যতিক্রমই মনে হচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষ করে দলের সঙ্গে দেশে ফিরেন। এবারও এশিয়া কাপ শেষে দেশে ফিরেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে দেশে ফিরে ‘এ’ দলের খেলোয়াড়দের দেখতে চলে গিয়েছিলেন আয়ারল্যান্ডে। বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশের ক্রিকেটে নিজের অবস্থান তৈরি করতে বেশ ঘাম ঝরাচ্ছেন রোডস। তেমনি শিষ্যদের পাশে থাকতেও কম চেষ্টা করছেন না।

এশিয়া কাপের ফাইনালে লিটনের আউট নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না রোডস। তার মতে, লিটনের আউট ছিল ক্লোজ কল। তাইতো ম্যাচ শেষে কোচ চলে গিয়েছিলেন রেফারির রুমে। ডেভিড বুনের কাছে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চেয়েছিলেন। বুন তাকে জানান, অফ ফিল্ড এবং অন ফিল্ড চারজন আম্পায়ারই নিশ্চিত ছিল, দাগের ভেতরে কিছু ছিলনা। তাই লিটনকে আউট দেওয়া হয়েছে। দেশে ফিরে গণমাধ্যমকে এ কথাই জানান রোডস।

শনিবার রাতে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে এশিয়া কাপের সফর নিয়ে কথা বলেন স্টিভ রোডস। রারাজশাহীর কণ্ঠ’র পাঠকদের জন্য তা দেওয়া হল:

প্রশ্ন: এশিয়া কাপের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

স্টিভ রোডস:  অভিজ্ঞতা দারুণ ছিল। এই সফর থেকে অনেক ভালো পয়েন্ট বের হয়ে এসেছে। আমাদের কিছু দীর্ঘ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু আমরা স্কোয়াড সম্পর্কে ভালো জেনেছি, এবারের সফরে। আর ফাইনাল ম্যাচটা দারুণ এক মুহূর্ত ছিল। আক্ষেপ আমরা ম্যাচটা শেষ করতে পারি নি। ছেলেরা দারুণ পারফর্ম করেছে, বিশেষ করে বোলাররা। তাঁরা চেষ্টা করছে লো স্কোর ডিফেন্ড করার। আমরা সুযোগ নষ্ট করেছি, তবে আমরা শেষ পর্যন্ত লড়েছি। আশা করি বাংলাদেশি মানুষজন দেখেছে, এই দলটি সত্যিই লড়াই করা শুরু করেছে।

প্রশ্ন: শিরোপা পাননি, হতাশ আপনি?

স্টিভ রোডস: কিছুটা হতাশ। কিন্তু আপনাকে বিষয় গুলো বুঝতে হবে। আমাদের জয়ের সুযোগ ছিল। আমরা সুযোগটা হাতছাড়া করেছি। আমরা ভালো পারফর্ম করেছি। ভারতীয় দল খুবই ভালো দল, আমরা সবাই জানি। তাদের দল মিলেনিয়ার ক্রিকেটারে ভরা, আর বেঞ্চে অনেক মিলেনিয়ার ক্রিকেটার রয়েছে। তাদেরকে একদম শেষ বল পর্যন্ত ঠেলে নেয়া খুবই ভালো পারফরম্যান্স ছিল। শুধু একটু হতাশ, আমরা শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয় করতে পারিনি।

প্রশ্ন: ইনজুরি নিয়ে পারফর্ম করা কতটা কঠিন ছিল?

স্টিভ রোডস: সফর করা, গরম সহ্য করে খেলা কঠিন ছিল। ছেলেরা তাদের সবটা দিয়েছে। আমরা আমাদের সেরা দল নিয়ে খেলতে পারিনি। সাকিব-তামিমের কেউই ছিল না। কিন্তু ছেলেরা যাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়েছে। টুর্নামেন্টে আরও ৪টি দল ছিল, যারা ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারেনি। এদের মধ্যে দুটি দল খুবই ভালো ছিল। গরম, সফর ক্লান্তির মধ্য দিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয়া প্রশংসনীয় ছিল। আমি খুবই গর্ববোধ করছি।

প্রশ্ন: এ সফরের ইতিবাচক কোন দিকগুলো আপনার চোখে ধরা পড়েছে?

স্টিভ রোডস: অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে। লিটন যেভাবে খেলল শেষ ম্যাচে, সেটা দুর্দান্ত ছিল। মিথুন, সেও খুব ভালো খেলেছে। বোলাররা ধারাবাহিকভাবেই ভালো ছিল, কখনো স্পিনাররা, কখনো পেসাররা। কিছু কিছু ম্যাচে আমরা ফিল্ডিং এর ক্ষেত্রে একদম নিখুঁত ছিলাম। আমরা ভালো কিছু জুটি পেয়েছি, মুশি ও মিথুনের মধ্যে। রিয়াদ ও ইমরুল বড় ম্যাচে ভালো করেছে। তবে সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল মুশি, সে অবিশ্বাস্য পারফর্ম করেছে। সে অনেক রান করেছে এবং আমাদেরকে কঠিন অবস্থা থেকে টেনে তুলেছে। তাঁর এশিয়া কাপটা ভালো ছিল।

প্রশ্ন: তরুণদের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন?

স্টিভ রোডস: দেখুন মিথুন খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি। সে দুটি ৬০ রানের ভালো ইনিংস খেলেছে। মিরাজ অনেক দিন ধরে খেলছে, কিন্তু সে একজন তরুণ ক্রিকেটার। সে দলে একজন অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলছে। শেষ ম্যাচের আগে, কেউই তাঁর বলে রান নিতে পারেনি। সে খুবই আঁটসাঁট বোলিং করেছে। লিটন, এটা তাঁর দ্বিতীয় ইনিংস, যেটা ফাইনালের মত বড় মঞ্চের চাপ ছিল। সে ওয়েস্ট ইণ্ডিজে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ভালো করেছিল। সে বড় ম্যাচ গুলোতে ভালো করা শুরু করেছে। সুতরাং এখানে অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে।

প্রশ্ন: লিটনের আউট নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত মতামত?

স্টিভ রোডস: এটা খুবই ক্লোজ ডিসিশন ছিল। আমি বলতে পারছি না, এটা আউট নাকি নট আউট ছিল। সিদ্ধান্তটা খুবই কঠিন ছিল। ম্যাচ শেষে ম্যাচ রেফারির সাথে কথা বলেছি আমি। তিনি বলেছেন, চার জন আম্পায়ারই নিশ্চিত ছিল, দাগের ভেতরে কিছু ছিলনা। যদি পা দাগে থাকে তাহলে তুমি আউট। এটা বিতর্কিত ছিল। ক্রিকেটে এইসব মেনে নিতেই হবে এবং সামনে এগোতে হবে। সিদ্ধান্তটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আমাদের সেরা ব্যাটসম্যান ক্রিজে ছিল তখন। সে আউট হয়েছে, এতে আমি হতাশ। তবে সিদ্ধান্তটা কঠিন ছিল। ক্রিকেটে আপনি মেনে নিতে শিখেন, একদিন আপনার পক্ষে যাবে, আরেকদিন আপনার বিপক্ষে। সেদিন ফাইনাল ম্যাচে আমাদের হয়ে সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যান আউট হয়েছে, বলতেই হয় সিদ্ধান্ত আমাদের বিপক্ষে গেছে।

x

Check Also

চোখ থাকবে ‘অধিনায়ক’ তামিমের দিকে

বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা জাতীয় দলের নেতৃত্বের পদ থেকে সরে দাঁড়ালে সেই জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হোন তামিম ইকবাল। জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়কত্ব পেলেও মাঠে নিজের নেতৃত্ব দেখানোর সুযোগই পাচ্ছিলেন না এই ওপেনার। ...

যে লিংকে দেখা যাবে মাহমুদউল্লাহ-শান্ত একাদশের ম্যাচ

দুপুর দেড়টায় মাঠে গড়াবে তিন দলের ওয়ানডে প্রতিযোগিতা ‘বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ’। মিরপুর শের-ই-বাংলায় মুখোমুখি হবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ একাদশ ও নাজমুল হোসেন শান্তর একাদশ। সীমিত পরিসরের এ প্রতিযোগিতায় খেলছেন জাতীয় দল ও এইচপির ক্রিকেটাররা। তামিম, মাহমুদউল্লাহ ...

সতীর্থদের জন্য ওয়ানডে অধিনায়কের যে বার্তা

দীর্ঘদিন পর মিরপুরে গড়াচ্ছে সাদা বলের ক্রিকেট। ব্যাট-বলের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠবেন তামিম, মাহমুদউল্লাহ ও নাজমুলের একাদশ। জাতীয় দল ও এইচপির ক্রিকেটারদের নিয়ে রোববার (১১ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে তিন দলের ‘বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ’। প্রতিযোগিতায় নিজ ...

শিরোনামঃ