পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি > কম্পিউটার > র‌্যানসমওয়্যার থেকে যেভাবে নিরাপদ থাকবেন

র‌্যানসমওয়্যার থেকে যেভাবে নিরাপদ থাকবেন

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : ক্ষতিকর সফটওয়্যার র‌্যানসামওয়্যারে আক্রান্তদের সংখ্যা বিশ্বে দিন দিন বেড়ে চলেছে। তারই সাম্প্রতিক উদাহরণ, বিশ্বের ৯৯টি দেশে একযোগে হ্যাকারদের র‌্যানসামওয়্যার হামলা।

বহু প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার এই সাইবার হামলায় অচল হয়ে পড়েছে। হ্যাকারা অচল কম্পিউটার সচল করার জন্য মুক্তিপণ হিসেবে দাবী করেছে বিটকয়েন।

সাধারণত ০.৩ এবং ১ বিটকয়েন মুক্তিপণ হিসেবে হ্যাকাররা দাবী করে থাকে। বর্তমানে কম্পিউটারের পাশাপাশি মোবাইল ডিভাইসও র‌্যানসমওয়্যার ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক কম্পিউটারগুলোতে হ্যাকাররা এ ধরনের সাইবার হামলা বেশি চালালেও, ব্যক্তিগত কম্পিউটার এবং মোবাইল ব্যবহারকারীরাও হ্যাকারদের লক্ষ্যের বাইরে নয়।

র‌্যানসমওয়্যার কি
র‍্যানসমওয়্যার হল এক ধরনের ম্যালওয়্যার। যা কম্পিউটারকে আক্রান্ত করার পর ব্যবহারকারীকে তার মেশিনে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখে। এটি ব্যবহারকারীর প্রবেশগম্যতা সীমাবদ্ধ করে দেয় এবং এই সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য ব্যবহারকারীর কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করে।

কিছু র‍্যানসমওয়্যার আছে যা সিস্টেমের হার্ড ড্রাইভে অবস্থিত সকল ফাইল একটি বড় কি দিয়ে এনক্রিপ্ট করে ফেলে। এনক্রিপশন কি এতোটাই বড় হয় যে মুক্তিপণ না দিয়ে একে ভেঙে ফেলা প্রযুক্তিগত দিক থেকে প্রায় অসম্ভব। এছাড়াও কেউ কেউ সরল একটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সিস্টেম লক করে দেয় এবং ডিসপ্লেতে বার্তার মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে মুক্তিপণ দিতে চাপ প্রয়োগ করে থাকে।

এ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হল, র‌্যানসমওয়্যার থেকে নিরাপদ থাকার উপায়।

ফিশিং ইমেইল ও ওয়েবসাইট থেকে সাবধান
র‌্যানসমওয়্যারকে কাজে লাগানোর জন্য ভিকটিমের কম্পিউটার বা মোবাইলে হ্যাকারদের ক্ষতিকর সফটওয়্যার ইনস্টলের প্রয়োজন হয়। ক্ষতিকর সফটওয়্যার ইনস্টল হওয়ার পরপরই আক্রমণ এবং ফাইল এনক্রিপ্ট শুরু করে।

কম্পিউটার বা মোবাইলে র‌্যানসমওয়্যার প্রবেশের সবচেয়ে সাধারণ উপায় হল, ফিশিং ইমেইল। ইমেইল ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজের মাধ্যমে ফিশিং করা হয়ে থাকে। হ্যাকাররা ইমেইলে বা মেসেজে আকর্ষণীয় কোনো বিষয় উল্লেখ করে সেখানে লিংক বা ক্ষতিকর পিডিএফ ফাইল যুক্ত করে দেয়। লিংকে ক্লিক বা ক্ষতিকর পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করলেই কম্পিউটার বা মোবাইলে ব্যবহারকারীর অজান্তে র‍্যানসমওয়্যার ইনস্টল হয়ে যায়। তাই ইমেইল ও মেসেজের লিংকে ক্লিক করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।

অনিরাপদ ওয়েবসাইট ব্রাইজিংয়েও র‌্যানসমওয়্যারের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে পর্নো সাইটগুলোতে বিভিন্ন লিংক, অ্যাড ও পপআপ মেসেজের আড়ালে যুক্ত করা থাকে ক্ষতিকর সফটওয়্যার। এসব লিংক, অ্যাড ও পপআপ মেসেজে ক্লিক করা মাত্রই গোপনে ইনস্টল হয়ে যায় র‌্যানসমওয়্যার। এছাড়া ইন্টারনেট থেকে গান ও ভিডিও সার্চ করে ডাউনলোডের আগে ওয়েবসাইট সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। কেননা অপরিচিত কোনো ওয়েবসাইট থেকে গান, ভিডিও বা কোনো ছবি ডাউনলোড করার সময় বেনামের ক্ষতিকর সফটওয়্যার ডাউনলোড শুরু হয়ে যেতে পারে। ক্ষতিকারক সফটওয়্যারগুলো ক্ষুদ্র আকৃতির হওয়ায় দ্রুত ডাউনলোড হয়ে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় ইনস্টল হয়ে যায়। পর্নো ও অন্যান্য অপরিচিত সাইটগুলো ব্রাউজ করা থেকে বিরত থাকুন।

সফটওয়্যার ডাউনলোডে সাবধান
কম্পিউটারে সফটওয়্যার ডাউনলোডের ক্ষেত্রে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করুন। একই সতর্কতা মোবাইলে অ্যাপস ডাউনলোডের ক্ষেত্রেও, অনুমোদিত অ্যাপস স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন। ডাউনলোডের আগে অবশ্যই অ্যাপটির রিভিউ পড়ে নিন, কারণ বিশ্বস্ত অ্যাপস স্টোরগুলোতেও দুঃখজনকভাবে র‌্যানসমওয়্যারযুক্ত অ্যাপ থাকে।

অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন
র‌্যানসমওয়্যার আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারগুলো। র‌্যানসমওয়্যার ডাউনলোড হওয়ার সময় সতর্ক করে অ্যান্টিভাইরাস। আপনার ভুলে বা অজান্তে ডাউনলোড হলে, ভাইরাস স্ক্যান করা মাত্রই র‌্যানসমওয়্যারের অস্তিস্ত সম্পর্কে জানায় অ্যান্টিভাইরাস।

ইন্টারনেট থেকে ফাইল ডাউনলোডের আগে তাতে র‌্যানসমওয়্যার রয়েছে কিনা তা বেশিরভাগ অ্যান্টিভাইরাস স্ক্যান করতে পারে। এছাড়া ইন্টারনেট ব্রাউজ করার সময় বিপজ্জনক বিজ্ঞাপনগুলো থেকে অগোচরে র‌্যানসমওয়্যার ইনস্টল হওয়া ব্লক করতে পারে অ্যান্টিভাইরাস।

সফটওয়্যার আপডেট রাখুন
সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সফটওয়্যারের দূর্বলতাগুলো ঠিক করে প্রায়ই আপডেট উন্মুক্ত করে থাকে। যা র‌্যানসমওয়্যার ইনস্টল প্রতিরোধ করে। তাই সফটওয়্যারের নতুন আপডেট সবসময়ই ইনস্টল করুন।

ফাইল ব্যাকআপ রাখুন
র‌্যানসমওয়্যার আক্রমণে সবচেয়ে ভয়ংকর ক্ষতির দিকটা হচ্ছে- ছবি, ভিডিও, ডুকমেন্ট সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো। তাই হ্যাকারদের কাছে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো জিম্মি হওয়ার আগেই সেগুলোর ব্যাকআপ রাখুন ইন্টারনেট সংযোগ নেই এমন একটি ডিভাইসে। যেমন পোর্টেবল হার্ড ড্রাইভে ফাইলগুলোর ব্যাকআপ রাখতে পারেন।

তথ্যসূত্র : টেলিগ্রাফ

x

Check Also

শিশুদের বিনা মূল্যে কোডিং শেখাতে মাইক্রোসফটের কর্মশালা

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : স্কুল পড়ুয়া শিশুদের জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এর ওপর প্রাথমিক জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো ‘কোডিং ফর কিডস’ শীর্ষক দুই ঘন্টাব্যাপী কোডিং কর্মশালার আয়োজন করতে যাচ্ছে মাইক্রোসফট বাংলাদেশ। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ...

শুরু হচ্ছে হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : ২০১৫ ও ২০১৬ সালের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এ বছরও খুব শিগগির শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০১৭। এবারের আয়োজন বেড়ে এর সঙ্গে শিশুদের জন্য প্রোগ্রামিং উৎসব এবং ন্যাশনাল গার্লস প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হবে। ...

আসুসের সপ্তম প্রজন্মের মাদারবোর্ড

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : মাদারবোর্ড মূলত কম্পিউটারের সবগুলো কম্পোনেন্টের মধ্যে সুষম সমন্বয় সাধন করে থাকে। তাই মাদারবোর্ডের ওপর কম্পিউটারের পারফরম্যান্স বহুলাংশে নির্ভর করে। কম্পিউটারে উন্নত পারফরম্যান্স ও গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে দেশের বাজারে এসেছে সপ্তম প্রজন্মের আসুস মাদারবোর্ড। ...

শিরোনামঃ