পরীক্ষামূলক প্রকাশনা - সাইট নির্মাণাধীন

Home > বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি > শরীরের যেখানে মৌমাছির কামড় তীব্র যন্ত্রণাদায়ক

শরীরের যেখানে মৌমাছির কামড় তীব্র যন্ত্রণাদায়ক

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : আমাদের শরীরে এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে মৌমাছির কামড়ে শারীরিক অস্বস্তি এবং যন্ত্রণায় ভুগতে হবে না। তাই মৌমাছির কামড় থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখাটাই উত্তম। যা হোক, আপনি যদি মৌমাছির কামড়ের শিকার হয়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয় জানেন যে, শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় কোন অংশে মৌমাছির কামড় বেশি বেদনাদায়ক।

ব্যথা যদিও সাবজেক্টিভ একটি বিষয় (ব্যক্তিসাপেক্ষে স্বসংবেদনশীল অর্থাৎ একজন ব্যক্তির স্ববর্ণনাই ব্যথার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরিমাপ), তবে ১৯৮০ সালে জাস্টিন স্মিড নামের একজন গবেষক পোকামাকড়ের কামড়ে সৃষ্ট ব্যথার মাত্রার একটি তালিকা তৈরি করেন। এই তালিকায় তিনি ৭৮টি ভিন্ন প্রজাতির পোকামাকড়ের কামড়ের ব্যথার তীব্রতাকে শূন্য থেকে চার মাত্রায় পরিমাপ করেন (চার মাত্রার অসহনীয় মারাত্মক ব্যথা হচ্ছে, বুলেট অ্যান্ট প্রজাতির পিপঁড়া এবং ট্যালেন্টুলা হক প্রজাতির পতঙ্গের কামড়)। ব্যথা যেহেতু সাবজেক্টিভ বিষয়, তাই বিজ্ঞানী জাস্টিন তার নিজের শরীরেই পোকামাকড়ের কামড় গ্রহণ করে ব্যথার মাত্রা পরিমাপ করেন।

এ গবেষণায় জাস্টিন আরো আবিষ্কার করেন যে, শরীরের বিভিন্ন স্থানে পোকামাকড়ের কামড়ের ব্যথার মাত্রা নির্ভর করে। এক্ষেত্রে তিনি উদাহরণ হিসেবে মৌমাছি ব্যবহার করেন। মানব শরীরে মৌমাছির কামড়ের সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্থান নির্বাচনের জন্য তিনি নিজ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মৌমাছির কামড় সহ্য করেন।

ফলাফলে দেখা গেছে, মৌমাছির কামড় মানেই ব্যথাদায়ক। গবেষণায় মৌমাছির কামড়ে বেদনাদায়ক হিসেবে মানব শরীরের ২৫টি স্থানকে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বেদনাদায়ক স্থান হচ্ছে- নাক, উপরের ঠোঁট এবং লিঙ্গ। এই তিন অংশে মৌমাছির কামড়ে শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ব্যথা অনুভব হয়। কম ব্যথা অনুভব হয় মাথা, উপরের বাহু এবং পায়ের মাঝের আঙুলের ডগায়। এক্ষেত্রে জাস্টিন ব্যথার মাত্রা শুন্য থেকে দশ পর্যন্ত পরিমাপ করে এ সিদ্ধান্তে এসেছেন।

যা হোক, ব্যথা সাবজেক্টিভ একটি বিষয়। সুতরাং একজন ব্যক্তি তার শরীরে যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা অনুভব করেছেন অন্য সকলেই তাদের শরীরে ওই একই স্থানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা অনুভব করবেন তা কিন্তু নয়। তাই শরীরের ভিন্ন ভিন্ন স্থানের সঙ্গে ব্যথার মাত্রার সংযোগ বুঝতে আরো বেশি গবেষণার প্রয়োজন। কিন্তু এ ধরনের গবেষণায় স্বেচ্ছাসেবক পাওয়াটা হয়তো কঠিন, কারণ কেইবা স্বেচ্ছায় মৌমাছির কামড় খেতে চাইবে।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

x

Check Also

সর্বস্তরের শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট দাবি

স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত সর্বস্তরের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক বিবৃতিতে ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদেরকে নামমাত্র মূল্যে ইন্টারনেট ...

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার ৪ উপায়

২০০ কোটির বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাপ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এটি হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে। নানা কূটকৌশলের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট হ্যাকের চেষ্টায় সদা তৎপর থাকে হ্যাকাররা। তবে সাইবার অপরাধীদের কবল থেকে ...

ই-ভ্যালির ব্যবসা পর্যালোচনায় ই-ক্যাবের কমিটি

ই-ভ্যালির ব্যবসা পদ্ধতি পর্যালোচনা করতে ৭ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। সাম্প্রতিক সময়ে ই-ক্যাবের সদস্য প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি সম্পর্কে পত্রিকায় প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের তথ্য চাওয়ার আলোকে এই কমিটি গঠন ...

শিরোনামঃ